বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৫

একদিনে ৩০ জন পুরুষ আমাকে ছিঁড়ে খেয়েছে

একদিনে ৩০ জন পুরুষ আমাকে ছিঁড়ে খেয়েছে

২৪ ঘণ্টায় ৩০ পুরুষের ধর্ষণ। সাতদিন এক নাগাড়ে, সঙ্গে মারধর! সেই ভয়াবহ দিনগুলো দুঃস্বপ্নের মতো। আজও তিনি শিউরে ওঠেন। কতই বা বয়স তখন। বছর ১৪, খুব বেশি হলে। স্কুল, বন্ধুদের সঙ্গে খেলা, বই পড়া, গান শোনা -- নিশ্চিন্ত, সুখের মেয়েবেলাই তো তাঁর প্রাপ্য ছিল। একদিন সব সব ওলটপালট হয়ে গেল। পাড়ার এক কাকুর হাত ধরে কাজের খোঁজে নেপাল থেকে ভারতের মুম্বাই।

তারপর মর্মান্তিক সেই ছবি। একটি ঘরে বন্দি। চিত্‍‌কার করেও কোনও লাভ নেই। একের পর এক লোক ঢুকে মিটিয়ে যাচ্ছে বিকৃত যৌন লালসা। ক্লান্ত, রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে পড়ে রয়েছেন তিনি। সেই অন্ধকার জগত থেকে কোনও ক্রমে পালিয়ে বেঁচেছিলেন নেপালের সুনীতা দুয়াঁওয়ার। পাচার হওয়া নাবালিকাদের যৌনপল্লি থেকে উদ্ধার করাই এখন ব্রত সুনীতার।

ভয়াবহ ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত নেপালে এখনও হাহাকার। প্রকৃতির রোষে সব হারিয়ে প্রতিনিয়ত বাঁচার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে নেপালবাসী। আর তাঁদের এই দুরাবস্থার সুযোগ নিতে ব্যস্ত নারীপাচারকারীরা। কাজের প্রলোভন দেখিয়ে নাবালিকাদের ভারতে পাচার করে জোর করে যৌনপল্লিতে ঠেলে দেওয়ার ঘটনা নেপালে নতুন নয়।

ভূমিকম্পের পর তা আরও বেড়েছে। নারীপাচারকারীদের বিরুদ্ধে একা লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন সুনীতা দুয়াঁওয়ার। যৌনপল্লির অন্ধকার থেকে নাবালিকাদের উদ্ধার করার লড়াই। হাজারো চোখরাঙানি, প্রাণে মারার হুমকি -- সব কিছু উপেক্ষা করেই তিনি লক্ষ্যে অবিচল।

সুনিতা জানাচ্ছেন, ২০ বছর আগে তাঁর সঙ্গেও ঘটেছিল সেই ভয়াবহ ঘটনা। বিস্ফোরক স্বীকারোক্তিতে আলোড়ন ফেলে দিয়েছেন দুনিয়ায়। জানাচ্ছেন, তাঁর যখন ১৪ বছর বয়স, তখন তাঁকে ভারতে কাজ দেওয়ার নাম করে নিয়ে যাওয়া হয়। সংসারের অভাব মেটাতে পাড়ার আঙ্কেলের সঙ্গে রাজি হয়ে যান তিনি। মুম্বাই গিয়ে সেই আঙ্কেল হঠাত্‍‌ বদলে গেল। একটি বাড়িতে নিয়ে গিয়ে ঘরে ঢুকিয়ে তালা দিয়ে চলে গেল। বুঝতে পেরেছিলেন, তিনি বিক্রি হয়ে গিয়েছেন। এখন এই নরককুণ্ডই তাঁর ভবিতব্য। এরপর শুরু অত্যাচার।
সুনীতার কথায়, 'পাঁচ মাস আমি বন্দি ছিলাম। ঘরের বাইরে বেরোতে দেওয়া হত না। একের পর এক লোক ঢুকত। তারপর শুরু করত ধর্ষণ। এই ভাবেই কাটত গোটা সপ্তাহ। এমনও দিন গিয়েছে যে, একদিনে ৩০ জন পুরুষ আমাকে ছিঁড়ে খেয়েছে। বাধা দিলেই জুটেছে মার। জোর করে মুখে ঢুকিয়ে দেওয়া হত খাবার। এমনকি ঘুমিয়ে পড়লেও আমাকে মাঝরাতে তুলে বলা হত, কাস্টমার এসেছে। তোমার সঙ্গে সেক্স করতে চায়।'

পাঁচ মাস এই অত্যাচার সহ্য করার পর পালিয়ে যান সুনীতা। তারপর জীবনের ব্রত করেন, পাচার হওয়া নাবালিকাদের তিনি উদ্ধার করবেন। তাঁর মতো অবস্থা যেন কারও না হয়। সুনীতার কথায়, 'সারা বিশ্বে ২ লক্ষ ২৮ হাজার ৭০০ নেপালি নাবালিকা যৌনপল্লিতে আটক রয়েছে। জাতিসঙ্ঘের রিপোর্ট বলছে, প্রতিবছর কাজ দেওয়ার নাম করে ৭ হাজার নাবালিকাকে নেপাল থেকে পাচার করা হয়। এই কাজ আমি বন্ধ করবই।' 

যানজট-জলজট আতঙ্কে অনেকে বাসা থেকেই বের হননি।

যানজট-জলজট আতঙ্কে অনেকে বাসা থেকেই বের হননি।

যানজট-জলজট আতঙ্কে অনেকে বাসা থেকেই বের হননি। আর যে কারণে গতকালের রাজধানী ছিল অনেকটাই ফাঁকা। সকাল থেকে বৃষ্টি হলেও দুপুর নাগাদ তা থেমে যায়। কিন্তু মানুষ ভোগান্তির কথা চিন্তা করে অনেকেই বাসায় অলস সময় কাটান। এক দিনের জলাবদ্ধতা রাজধানীর নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। প্রতিটি সবজির কেজি গতকাল অন্তত ১০ টাকা বেশিতে কিনতে হয়। গতকালও কোনো কোনো এলাকার প্রধান সড়কে পানি আটকে ছিল। এ দিকে, রাজধানীর কিছু কিছু এলাকায় জলাবদ্ধতার কারণে বাসাবাড়ির নিচতলায় পানি জমে রয়েছে। বিশেষ করে রাজধানীর নি¤œাঞ্চলের বাসাবাড়ির নিচতলায় এখন হাঁটুপানি। ওই সব এলাকার বাসিন্দারা এখন মহা বিপাকে। 
গত মঙ্গলবার দিনভর বৃষ্টিতে অচল ছিল রাজধানী। সকালের বৃষ্টি উপেক্ষা করে যারা বের হয়েছিলেন কাজে তারা পড়েন মহা বিপাকে। কাজ তো হয়ই নি, উল্টো দিনভর কেউ কেউ যানবাহনে আটকে থেকেছেন, আর অনেকে কাকভেজা হয়ে ঘরে ফিরেছেন দুঃসহ ভোগান্তির পরে। পথেঘাটে অসংখ্য খানাখন্দক আর উন্নয়নের নামে সৃষ্ট বড় বড় গর্তে পড়ে অনেকে আহত হয়েছেন। অসংখ্য যানবাহন পানিতে আটকে অকেজো হয়েছে। আর এসব কারণে দিনভর ছিল ভয়াবহ যানজট।
পরশুর এই ভোগান্তির কথা মাথায় রেখে অনেকেই গতকাল ঘর থেকে বের হননি। একেবারে যারা চাকরি-বাকরি করেন, বা খুবই জরুরি কাজের জন্য বাইরে বের হতে হবে তারা ছাড়া। গতকালও সকালে রাজধানীতে ছিল বৃষ্টি। দুপুর ১২টার দিকে বৃষ্টি থেমে যায়। এরপর বৃষ্টি না হলেও মানুষের মধ্যে ভয় ছিল পানির। গতকালও রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় রাস্তাঘাটে পানি লক্ষ করা গেছে। হাঁটু না ডুবলেও সেই পানিতে পা ভিজেছে। আর কোথাও কোথাও হাঁটুপানিও লক্ষ করা গেছে। ঝিগাতলা গাবতলা মসজিদ থেকে পা ভেজা পানি দেখা গেছে ঝিগাতলা মোড় পর্যন্ত। বউবাজারে গতকালও ছিল হাঁটুপানি। লালবাগের বিভিন্ন গলিতে গতকালও হাঁটুপানি লক্ষ করা যায়। পোস্তাগোলার করিমুল্লার বাগ, কদমতলী ও শ্যামপুরের বিভিন্ন এলাকা, গেন্ডারিয়ার বিভিন্ন রোডে গতকালও হাঁটুপানি লক্ষ করা যায়। প্রধান প্রধান সড়কে গতকালও পানি জমে থাকতে দেখা গেছে। শান্তিনগর, নয়া পল্টনসহ বেশ কয়েকটি রাস্তায় গতকালও পানি জমে ছিল। তবে প্রধান সড়কগুলোর এই পানি মানুষের ভোগান্তি সৃষ্টি করেনি। উল্টো কোনো কোনো এলাকায় গতকাল ছুটির আমেজ লক্ষ করা যায়। 
এ দিকে, জলাবদ্ধতার কারণে বেশির ভাগ রাস্তার অবস্থা একেবারে নাজুক হয়ে গেছে। এক দিন আগেও যেসব রাস্তা চলাচলের উপযোগী গতকাল তার অনেক রাস্তায় বড় বড় গর্ত লক্ষ করা যায়। পানিতে ডুবে থেকে রাস্তার ওপরের স্তর উঠে গেছে। এসব রাস্তা এখন চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে গেছে।
গতকালও রাজধানীর বেশির ভাগ ফুটপাথের দোকানপাট বন্ধ ছিল। রাস্তায় যানবাহন কম লক্ষ করা গেছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতেও উপস্থিতি ছিল কম। রাজধানীর মধুবাজারের বাসিন্দা নেওয়াজ বলেন, তিনি তার সন্তানকে নিয়ে গতকাল আর স্কুলে যাননি। আগের দিন ভোগান্তির কথা চিন্তা করেই গতকাল বাসা থেকে বের হননি। 
এ দিকে, এক দিনের বৃষ্টির ফলে রাজধানীর নি¤œাঞ্চল বিশেষ করে হাজারীবাগ, কামরাঙ্গিরচর, লালবাগ, শ্যামপুর, কদমতলী, যাত্রাবাড়ী, বাড্ডা, মুগদা, ডেমরা ও সবুজবাগের বেশ কিছু এলাকার বাসাবাড়ির নিচতলায় পানি জমে ছিল। ওই সব এলাকার বেশ কয়েকজন বাসিন্দা জানান, এভাবে দু-চার দিন পানি জমে থাকলে তাদের মহা ভোগান্তি হবে। ইতোমধ্যে তাদের ঘর থেকে বের হওয়া বন্ধ হয়ে গেছে। রান্নাবান্নাও অনেকের বন্ধ। নিত্যপ্রয়োজনীয় পানি নিয়েও তারা সমস্যায় পড়েছেন। ওই সব এলাকার অনেক দোকানপাট বন্ধ হয়ে গেছে। 
মান্ডা এলাকার সিরাজুল ইসলাম বলেন, ঘর থেকে বের হতে এখন নৌকা লাগবে। মাতুয়াইলের বাসিন্দা নাজিম বলেন, নৌকায় করে এখন বাসা থেকে বের হতে হয়। এভাবে আরো কয়েক দিন জলাবদ্ধতা থাকলে মহা সমস্যায় পড়বেন তারা।



দীর্ঘ সময় পর সিলেটের সঙ্গে ঢাকা-চট্টগ্রাম ট্রেন চালু

দীর্ঘ সময় পর সিলেটের সঙ্গে ঢাকা-চট্টগ্রাম ট্রেন চালু

দীর্ঘ ছয় ঘণ্টা পর সিলেটের সঙ্গে ঢাকা ও চট্টগ্রামের রেল যোগাযোগ শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল আটটার দিকে ট্রেন যোগাযোগ শুরু হয়।
এর আগে গতকাল বুধবার দিবাগত রাত দুইটার দিকে সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার মোগলাবাজারে চট্টগ্রামগামী একটি ট্রেনের দুটি বগি লাইনচ্যুত হয়।
শমসেরনগর রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার কবির হোসেন জানান, রাতে চট্টগ্রামগামী ১৪ নম্বর ডাউন জালালাবাদ এক্সপ্রেস ট্রেনের দুটি বগি লাইনচ্যুত হয়। ওই সময় সিলেট থেকে ঢাকাগামী কালনি এক্সপ্রেস ও সিলেট থেকে আখাউড়াগামী ডেমু ট্রেন আটকা পড়ে।
বৃহস্পতিবার সকালে সিলেট থেকে উদ্ধারকারী দল গিয়ে বগি দুটি উদ্ধার করে। এরপর সকাল আটটার দিকে ট্রেন চলাচল আবার শুরু হয় বলে জানান তিনি।
ছয় ঘণ্টা রেল যোগাযোগ বন্ধ থাকায় ওই রুটের যাত্রীরা দুর্ভোগে পড়েন।

বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০১৫

১৫ কোটি শ্রমিকের সকাল-সন্ধ্যা ধর্মঘটে ভারতজুড়ে জনজীবন অচল হয়ে পড়েছে।

১৫ কোটি শ্রমিকের সকাল-সন্ধ্যা ধর্মঘটে ভারতজুড়ে জনজীবন অচল হয়ে পড়েছে।

১৫ কোটি শ্রমিকের সকাল-সন্ধ্যা ধর্মঘটে ভারতজুড়ে জনজীবন অচল হয়ে পড়েছে।
ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের ‘শ্রমিক বিরোধী নীতির’ প্রতিবাদে কয়েকটি শ্রমিক সংগঠন এই ধর্মঘটের ঘোষণা দেয়।

ধর্মঘট সফল করতে গত দুই মাস ধরেই সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলির তরফে প্রচারণা চালানো হয়েছিল।
রাজনৈতিকভাবে বিজেপি এবং তৃণমূল ছাড়া দেশের বাকি প্রধান দলগুলি শ্রমজীবী মানুষের স্বার্থের কারণ দেখিয়ে এই ধর্মঘটকে সমর্থন করায় পশ্চিমবঙ্গসহ দেশের নানা প্রান্তে স্বাভাবিক জনজীবন ব্যাহত হয়েছে।


তবে ধর্মঘটে আওতা থেকে ছাড় দেওয়া হয়েছে দুধ, পানি, বিদ্যুৎ, হাসপাতাল, ফায়ার সার্ভিস, অ্যাম্বুলেন্স, গণমাধ্যমসহ জরুরি পরিষেবাকে।
পশ্চিমবঙ্গে এদিন সকাল থেকেই ধর্মঘটের সমর্থনে রাস্তায় নামে ধর্মঘট সমর্থনকারীরা।
ধর্মঘট রুখতে মমতা ব্যানার্জির নির্দেশে রাস্তায় মোতায়েন রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।
স্বাভাবিকভাবেই সকাল থেকেই রাজ্যটির একাধিক জায়গায় ধর্মঘট সমর্থনকারীদের সঙ্গে হাতাহাতি বাধে পুলিশের সঙ্গে।
শিয়ালদহ কিংবা হাওড়া সেকশনে একাধিক জায়গায় ধর্মঘট সমর্থনকারীরা রেললাইনের ওপরে বসে পড়ায় ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়েছে।
একাধিক জায়গায় রেলের তারের ওপরে কলাপাতা ফেলে দেওয়ার ফলেও বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে রেল পরিষেবা। বেশ কয়েকটি স্টেশনে এক্সপ্রেস ট্রেন দাঁড়িয়ে পড়ে, ফলে সমস্যার মুখে পড়ে বহু যাত্রী।
এদিকে, সোদপুরে ধর্মঘট সমর্থনকারী ও বিরোধীদের মধ্যে পাথর ছোঁড়াছুঁড়িতে এক নারী আহত হয়েছেন।
এছাড়াও করুণাময়ী, যাদবপুর, বসিরহাট, হাওড়া, বারুইপুর সহ একাধিক স্থানে পুলিশের সঙ্গে ধর্মঘট সমর্থনকারীদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। সকাল থেকেই অধিকাংশ স্কুল-কলেজ, দোকান-পাট বন্ধ রয়েছে।
তবে কলকাতার দমদম বিমান বন্দরে এখনও পর্যন্ত ধর্মঘটের কোন প্রভাব পড়েনি।
কলকাতাসহ রাজ্যের অন্যত্র রাস্তায় সরকারি বাস নামলেও বেসরকারি বাসের সংখ্যা কম। বিশৃঙ্খলার আশঙ্কায় সরকারি বাসের চালককে মাথায় হেলমেট পড়ে বাস চালাতে দেখা যায়।
যানবাহন থাকলেও তাতে যাত্রীর সংখ্যা ছিল হাতে গোনা।অন্যদিকে রাজ্যের প্রতিটি সরকারি অফিসে কর্মীদের উপস্থিতি ধরে রাখতে নির্দেশিকা জারি করেছে রাজ্য সরকার।
নির্দেশিকায় বলা হয়েছে অনুপস্থিতির উপযুক্ত কারণ না দেখাতে পারলে একদিনের বেতন কাটা যাবে এবং প্রয়োজনে ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।
সেই মতো রাজ্য প্রশাসনের সদর দপ্তর নবান্নসহ অনেক সরকারি অফিসেই রাত কাটান কর্মচারীরা।
পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি কেরল, হিমাচল প্রদেশ, দিল্লি, কর্নাটকসহ কয়েকটি রাজ্যেও ধর্মঘটের সামান্য প্রভাব পড়েছে।
দিল্লিতে এদিন বাস, সিএনজি চলাচল স্বাভাবিক ছিল না। কেরলের রাস্তায় যানবাহনের সংখ্যা অন্যান্য দিনের তুলনায় অনেক কম।
রাজ্যটির তথ্যপ্রযুক্তি সেক্টর বলে পরিচিত টেকনোপার্ক এবং ইনফো পার্কে উপস্থিতির হার কম।
হিমাচল প্রদেশে রাস্তায় যানবাহনের সংখ্যা অনেক কম থাকলেও রাজ্য সরকারের অফিস এবং স্কুল-কলেজ পরিষেবা এখনও স্বাভাবিক আছে। যদিও তামিলনাড়ুতে ধর্মঘটের তেমন কোন প্রভাব পড়েনি।

বাংলাদেশ হতে গৃহ কর্মী নিবেনা সৌদি আরব ।

বাংলাদেশ হতে গৃহ কর্মী নিবেনা সৌদি আরব ।

বাংলাদেশ থেকে গৃহকর্মী নেয়া বন্ধ করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সৌদি আরবের শ্রমিক নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলো।এবার তারা নেপাল থেকে গৃহকর্মী নেয়ার পরিকল্পনা করেছেন। এ বিষয়ে খুব শিগগিরই দু’দেশের মধ্যে চুক্তি হবে।
এ খবর দিয়েছে আরব নিউজ।
দেশটির শ্রম মন্ত্রণালয়ের ঘোষিত মাথাপিছু ৭ হাজার সৌদি রিয়াল শ্রমিক নিয়োগ ফি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে নিয়োগ বিষয়ক বিশেষজ্ঞ ইবরাহিম আল মেঘইমিশ বলেন, ‘বাংলাদেশী চাকরি প্রত্যাশী শ্রমিকের সংখ্যা অনেক কম। বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক সৌদিতে নেয়ার খরচ ১০০০ থেকে বেড়ে এখন ১৮০০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।‌‍‍‍’
৫ লাখ গৃহকর্মী বাংলাদেশ থেকে সৌদিতে আসবে বলে শ্রম মন্ত্রণালয় যে দাবি করেছিলো তা বাস্তবায়ন হয়নি উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, ‘বাংলাদেশের শ্রমিক নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলো রীতিমত গৃহকর্মী যোগান দিতে হিমশিম খাচ্ছে। কারণ, গৃহকর্মী নিয়োগের খরচ স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ব্যয়বহুল। যা বিগত দিনের তুলনায় ৮০ ভাগ বেশি।’
অন্যদিকে নেপালে সৌদি আরব দূতাবাসের এক কর্মকর্তা সম্প্রতি বলেছেন, গৃহকর্মী নিয়োগের জন্য দুই দেশের মধ্যে শিগগিরই চুক্তি হবে। এক্ষেত্রে দু’দেশের মধ্যে তৃতীয় কোন পক্ষ থাকবে না- এমন দাবি উঠেছে নেপাল সরকারের পক্ষ থেকে। এতে শ্রমিকের অধিকার রক্ষা হবে বলে নেপাল মনে করছে।
ওই কর্মকর্তা আরো বলেন, নেপালের শ্রম বিষয়ক মন্ত্রী শিগগিরই সৌদি আরব সফরে যাবেন। তখনই এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। বিভিন্ন খাতে শ্রমিক নেয়ার পর এখন গৃহকর্মী নেয়া হবে নেপাল থেকে।
ওই কর্মকর্তা আরো উল্লেখ করেন, নেপালে সম্প্রতি ভয়াবহ ভূমিকম্প হয়েছে। এ জন্য এ প্রক্রিয়া বিলম্বিত হচ্ছে। এখন নেপালের লিখিত আবেদন চূড়ান্ত করার জন্য অপেক্ষায় সৌদি আরব। এ বিষয়ে সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত আগামী কয়েক দিনের মধ্যে নেপালের শ্রম মন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করবেন।

ভারতীয় সেনার সঙ্গে জঙ্গিদের তীব্র গুলির লড়াই চলছে।

ভারতীয় সেনার সঙ্গে জঙ্গিদের তীব্র গুলির লড়াই চলছে।

ভারতের জম্মু ও কাশ্মিরের বরামুল্লা জেলার রফিয়াবাদের লাদুরা গ্রামে ভারতীয় সেনার সঙ্গে জঙ্গিদের তীব্র গুলির লড়াই চলছে। সেনা সূত্রে খবর, স্থানীয় গ্রামে জঙ্গিরা লুকিয়ে রয়েছে খবর পেয়ে চিরুনি তল্লাশি শুরু করে সেনা। তখন সেনার উপর গুলি চালাতে শুরু করে জঙ্গিরা। পালটা গুলি চালায় ভারতীয় সেনাও। এক বা দুই জঙ্গি লুকিয়ে রয়েছে গ্রামে, অনুমান সেনার। এক সেনা অফিসার জানিয়েছেন, পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে। জঙ্গিরা লুকিয়ে থাকতে পারবে না। এই রফিবাবাদেই গত ২৮ অগাস্ট সেনার হাতে ধরা পড়েছিল আরেক পাক জঙ্গি সাজ্জিদ হুসেন। নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর সেনা-জঙ্গি এনকাউন্টারের সময় ধরা পড়ে সাজ্জিদ। 

যেমন জলাবদ্ধতা তেমন যানযট ।

যেমন জলাবদ্ধতা তেমন যানযট ।

তীব্র জলজট ও দুঃসহ যানজটে নগরীর জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল মঙ্গলবার। সকাল থেকে টানা বৃষ্টিতে রাজধানীজুড়ে সৃষ্ট ভয়াবহ জলাবদ্ধতায় রাস্তায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঠায় দাঁড়িয়ে থাকে সব ধরনের যানবাহন। শ্রমজীবী ও কর্মজীবী মানুষসহ শিক্ষার্থীদের নাকানি-চুবানি খেতে হয়। ভেঙে পড়ে গোটা ট্রাফিক ব্যবস্থা। নগরীর অনেক এলাকা গভীর রাত পর্যন্ত পানির নিচে ডুবে ছিল। মধ্য ভাদ্রের এ ভারি বর্ষণে একদিকে জীবনযাত্রা যেমন ব্যাহত হয়েছে, তেমনি সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে নগরবাসীকে। দুই আড়াই ঘণ্টার বৃষ্টিতেই তলিয়ে যায় নগরীর অধিকাংশ এলাকা। পানিতে একাকার হয়ে প্রতিটি অলিগলি থৈথৈ করতে থাকে।
   
ঘর থেকে বৃষ্টি মাথায় নিয়ে যারা বের হয়েছেন, মাঝ রাস্তায় তাদের পড়তে হয় চরম দুর্ভোগে। ভুক্তভোগীরা বলেছেন, ২-৩ ঘণ্টার বৃষ্টিতে যেভাবে পুরো ঢাকা ডুবে গেছে, তাতে এ শহর বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। তীব্র যানজটের কারণে ১ ঘণ্টা দূরত্বের রাস্তা পার হতে সময় লেগেছে ৩ থেকে ৫ ঘণ্টারও বেশি। সকালে অফিসের উদ্দেশে ঘর থেকে বের হয়ে দুপুরের আগে অধিকাংশ মানুষ অফিসে পৌঁছতে পারেননি। আবার ঘরে ফেরার পথেও পড়তে হয়েছে চরম ভোগান্তিতে। প্রবল বর্ষণের কারণে মঙ্গলবার সকালে স্কুলগামী শিক্ষার্থী আর অফিসগামীদের পড়তে হয় মারাত্মক বিড়ম্বনায়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকে তাদের যানবাহন ধরতে হয়েছে। দুপুরে স্কুল ছুটির পর ধানমণ্ডি এলাকার স্কুলগুলোর আশপাশে দেখা গেছে হৃদয়বিদারক দৃশ্য। দীর্ঘসময় যানবাহন না পেয়ে স্কুলের শিক্ষার্থীরা ভয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ে। ভারি ব্যাগ কাঁধে নিয়ে বাধ্য হয়ে ওই সব শিশুদের দীর্ঘ রাস্তা পাড়ি দিতে হয়েছে। পশ্চিম ধানমণ্ডি মধুবাজারের তলিয়ে যাওয়া সড়কে খোলা ম্যানহলগুলো এ সময় এক ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি করে। অসংখ্য স্কুলের ছাত্রছাত্রী এসব খোলা ম্যানহলে পড়ে আহত হয়েছে। ধানমণ্ডি ২৭ নম্বর সড়কে কোমরপানিতে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও বাস-মিনিবাস বন্ধ হয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকে। এতে রাস্তায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে পুরো ঢাকা শহর স্থবির হয়ে পড়ে। যানবাহনের চাকা স্থির হয়ে যায়। এ সুযোগে রিকশা ও সিএনজি ভাড়াও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেন চালকরা।
দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কিছুটা কমে আসে আকাশের কান্না। এরপর রাস্তায় পাড়ে নগরবাসীর উপস্থিতি। এর মাঝে রাস্তায় জমে থাকা পানির কারণে সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট। শাান্তিনগর, ধানমণ্ডি, মধুবাজার, কারওয়ান বাজার, কলাবাগান, সংসদ ভবন এলাকা, পুরো মিরপুর, শ্যামলী, আসাদগেট, হাজারীবাগ, ঝিগাতলা, নিউমার্কেট, শাহবাগ, মিরপুর রোড, কাঁটাবন, রামপুরা, মেরুল, বাড্ডা, অভিজাত গুলশান-বনানী এলাকার অনেক রাস্তাও হাঁটুপানির নিচে তলিয়ে যায়। এ কারণে সর্বত্র দেখা দেয় তীব্র যানজট। নগরীর প্রায় প্রতিটি সড়কে দেখা যায় একই চিত্র। শুধু নিচু এলাকা নয়, উঁচু এলাকাতেও পানি জমে থাকতে দেখা যায়। মিরপুর সড়কে একেকটি গাড়িকে ৪-৫ ঘণ্টা ঠায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে।
৩ নম্বর সতর্ক সংকেত : সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে মঙ্গলবার রাত থেকে প্রবল বর্ষণে ডুবে গেছে রাজধানী ও বন্দরনগরী চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলা। আবহাওয়া অধিদফতরের পরিচালক শাহ আলম জানান, সকাল থেকে ৪২ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এ বৃষ্টি আরও এক সপ্তাহ চলবে বলেও তিনি জানান। উত্তর বঙ্গোপসাগরে গভীর সঞ্চালনশীল মেঘমালা তৈরি হওয়ায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অধিদফতর। এক সতর্কবার্তায় মঙ্গলবার বলা হয়, গভীর সঞ্চালনশীল মেঘমালার প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা এবং সমুদ্র বন্দরের ওপর দিয়ে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি এসে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।
তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত মানে হল বন্দর ও বন্দরে নোঙর করা জাহাজগুলোর দুর্যোগকবলিত হওয়ার আশংকা রয়েছে। বন্দরে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে এবং ঘূর্ণি বাতাসের টানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার হতে পারে। তবে বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের অভ্যন্তরীণ নদী বন্দরগুলোকে ২ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া বিভাগ।
রাজধানীতে দুর্ভোগ : এদিকে সরেজমিন রাজধানীর পুরান ঢাকার নাজিম উদ্দিন সড়ক, কাকরাইল, মৎস্য ভবন মোড়, শান্তিনগর, মিন্টো রোড, মগবাজার, রামপুরা শাহবাগ চত্বর, সায়েন্সল্যাব, ধানমণ্ডি ২৭ নম্বর, মধুবাজার, বাংলামোটর, ফার্মগেট, মহাখালী, মিরপুরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে রাত ৮টার পরও এসব এলাকার অনেক রাস্তায় হাঁটু পানি ছিল। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনের সড়ক, সংসদ ভবনের দক্ষিণের প্রবেশমুখ, মানিক মিয়া এভিনিউসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন সড়কে পানি জমে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়। সেই সঙ্গে গাড়ির গতি কম থাকায় দীর্ঘ যানজটে নাকাল হতে হয় অফিস ফেরত চাকরিজীবীদের। মিরপুরে যানজটে আটকে পড়া অবস্থায় কথা হয় গার্মেন্ট কর্মকর্তা সাইদুজ্জামান পলাশের সঙ্গে। বৃষ্টিতে রাজধানীর এ চিত্রে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি জানান, বাসা থকে বের হয়ে প্রায় পৌনে ৩ ঘণ্টা আটকে ছিলেন। চারদিকে পানি আর পানি। এই পানি নামার পথও নেই বলে তিনি জানান।
ধানমণ্ডি ১১/এ সড়কে দাঁড়িয়ে একজন অভিভাবক জানান, মিরপুর থেকে ধানমণ্ডির একটি স্কুলে আসতে তার প্রায় চার ঘণ্টা সময় লেগেছে। তিনি বলেন, নাতনি আরিশার স্কুল ছুটি হয়েছে বেলা দেড়টায়। তিনি স্কুলে পৌঁছেছেন ছুটির ১ ঘণ্টা পর। পুরো মিরপুর থেকে হেঁটে তিনি ধানমণ্ডির স্কুলে পৌঁছেছেন বলেও জানান।
বেলা সাড়ে ৩টায় মহাখালী ফ্লাইওভারের ওপর যানবাহনের দীর্ঘ জট দেখা যায়। সড়কের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টির পানির সঙ্গে নর্দমার কাদা একাকার হয়ে হেঁটে গন্তব্যে পৌঁছানোর পথও কঠিন করে তোলে।
পুলিশের ট্রাফিক কন্ট্রোল রুম থেকে দুপুরে জানানো হয়, বৃষ্টির কারণে রাজধানীজুড়ে ভয়াবহ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে মহাখালী, বিজয় সরণি, বাংলামোটর, ফার্মগেট, শাহবাগ, মগবাজার এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সমস্যা হচ্ছে। রাস্তায় পানি জমে যাওয়ায় ভিআইপি সড়কগুলোতে সিএনজিচালিত বহু অটোরিকশার ইঞ্জিন বিকল হয়ে আটকে থাকতে দেখা গেছে। এসব বিকল বাহন যানজট আরও বাড়িয়ে দেয় বলে ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা জানান। জাতীয় প্রেস ক্লাব থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে মহাখালী আসার পথে হাইকোর্টের সামনে যানজটে আটকা পড়েন ডাক্তার ঝিকু। পরে টিএসসি হয়ে এগোনোর চেষ্টা করলেও ফের আটকে যান। এরপর তিনি আর গন্তব্যে না গিয়ে মিরপুর টোলারবাগ পর্যন্ত পুরো রাস্তা হেঁটে বাসায় ফিরে যান। মোহাম্মদপুরের নূরজাহান রোড ও আশপাশের প্রতিটি সড়কে যানজট ছিল সকাল থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত। এ এলাকার বাসিন্দা ফৌজিয়া নীলু বলেন, বিভিন্ন রোডের অনেক বাস-মিনিবাস এ এলাকার অলিগলিতে ঢুকে পড়ায় রাস্তায় আটকে পড়া মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। মিন্টো রোডেও দীর্ঘসময় গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। অনেকে উল্টোপথে যাওয়ার চেষ্টা করায় ঝামেলা আরও বেড়েছে। বাংলামোটরে কর্মরত ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক বজলুর রহমান বলেন, বৃষ্টির কারণেই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ফার্মগেট বিজয় সরণি, সোনারগাঁও লিংক রোড, মানিক মিয়া এভিনিউর পশ্চিম পাশে পানি জমে রয়েছে। পানির কারণেই যানজট ছাড়ানো যাচ্ছে না। প্রবল বৃষ্টির মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনের সড়কেও পানি জমে যায়। কিছুক্ষণ পর ওই সড়কের পানি নেমে গেলেও যানজট থেকে যেতে দেখা গেছে। ফার্মগেট থেকে সার্ক ফোয়ারা পর্যন্ত সড়কটির দু’পাশে হাঁটুপানি দেখা গেছে। উত্তরা থেকে মহাখালী আসার পথে কাকলিতে এক ঘণ্টার বেশি সময় যানজটে আটকে থাকতে হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ওমর ফারুক। 

নগ্ন হতে কোন দিধা নেই তার ।

নগ্ন হতে কোন দিধা নেই তার ।


‘ওর বোনদের গণধর্ষণ করা হবে’:গ্রামের খাপ পঞ্চায়েত!

‘ওর বোনদের গণধর্ষণ করা হবে’:গ্রামের খাপ পঞ্চায়েত!

ভারতে বিবাহিত এক নারীর সঙ্গে সম্পর্কের কারণে তার ২ বোনকে গণধর্ষণের নির্দেশ দিয়েছে গ্রামের খাপ পঞ্চায়েত! ভারতের রাজধানী দিল্লী থেকে কিছুটা দুরে বাঘপুত জেলার একটি গ্রামে ঘটেছে এমন লোমহর্ষক ঘটনা।
রবি নামক এক ব্যক্তি তার চেয়ে উচ্চ শ্রেণীর এক নারীর সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে তাকে নিয়ে পালিয়ে যায়। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যদি প্রেমিকযুগল ফিরে না আসে তাহলে রবির ২ বোনকে গণধর্ষণের নির্দেশ দেয় পঞ্চায়েত। শুধু শারীরিকভাবে চরম লাঞ্চণার এই শাস্তির আদেশেই ক্ষান্ত হয়নি গ্রামটির শুধুমাত্র পুরুষদের দ্বারা গঠিত অনির্বাচিত এই পরিষদ। এই দু'জন নারীর মুখে কালি মেখে তাদেরকে নগ্ন করে গ্রামটির রাস্তায় ঘুরানোর রায়ও দেয়া হয় বিচারে।
এই বিচারের পর গ্রাম ছেড়ে অন্যত্র পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে রবির পরিবার। এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ এবং দুই বোনকে রক্ষার জন্য ভারতের প্রশাসনের কাছে আর্জি জানিয়েছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।
আরজিতে অ্যামনেস্টির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এরকম অনির্বাচিত গ্রাম্য পরিষদ ভারতের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে রয়েছে। এই ঘৃণ্য বিচারকে কোনভাবেই ন্যায়সঙ্গত বলা যাবে না। এটা ন্যায্য নয়। এটা ঠিক নয়। এটা আইনবিরোধী।

৩ নম্বর সংকেত জারি বৃষ্টি থামার সম্ভাবনা কম

৩ নম্বর সংকেত জারি বৃষ্টি থামার সম্ভাবনা কম

মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে থেমে থেকে বৃষ্টি হচ্ছে। এর প্রভাবে দেশের উপকূলীয় এলাকা এবং সমুদ্র বন্দরগুলোর উপর দিয়ে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এজন্য চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর সতর্কতা সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, বুধবার সকাল ৬টা পর্যন্ত দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হয়েছে কক্সবাজারে। সেখানে ১৭০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আর রাজধানীতে বৃষ্টিপাত হয়েছে ৬৪ মিলিমিটার। বৃহস্পতিবার থেকে বৃষ্টিপাত কিছুটা কমলেও তা একেবারেই থামবে না।

এদিকে, সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত ৩ ঘণ্টায় রাজধানীতে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ছিল ২৬ মিলিমিটার।

এ বিষয়ে আবহাওয়াবিদ আরিফ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, মৌসুমি বায়ু প্রভাবে দেশজুড়ে বৃষ্টিপাত হচ্ছে। আজ সারা দিন বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সন্ধ্যার পর রাজধানীতে কিছুট কমতে পারে। বৃহস্পতিবার থেকে কিছুটা কমলেও তা একেবারে থেমে যাবে না।

গতকাল রাতে প্রবল বৃষ্টিপাতের কারণ রাজধানীর শেওড়াপাড়া, কাজীপাড়া, আসাদগেট, মতিঝিল, রামপুরা, শান্তিনগর, বাড্ডা, বারিধারাসহ বিভিন্ন এলাকায় চরম জলাবদ্ধার সৃষ্টি হয়েছে। কিছু কিছু এলাকায় হাটু থেকে কোমর সমান পানি জমে গেছে। এতে দুর্ভোগে পড়েছে রাজধানীবাসী।