শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০১৫

প্রলভন দেখিয়ে ঢাকায় এনে কিডনি কেটে নিতো তারা ঃ গ্রেপ্তার ৫

প্রলভন দেখিয়ে ঢাকায় এনে কিডনি কেটে নিতো তারা ঃ গ্রেপ্তার ৫

রাজধানীর গাবতলী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় অভিযান চালিয়ে আন্তর্জাতিক কিডনি পাচারকারী চক্রের ৫ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। অভিযানে দুইজন ভুক্তভোগীকেও উদ্ধার করা হয়। তাদের একজনের বাড়ি জয়পুরহাট ও অন্যজনের মুন্সীগঞ্জে। 
গোয়েন্দা পুলিশরে যুগ্ম-কমিশনার মনিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, এই চক্রটি গ্রামের সহজ সরল ব্যক্তিদের টাকার প্রলোভন দেখিয়ে ঢাকায় নিয়ে আসতো। এরপর চেতনানাশক ওষুধ দিয়ে শরীর থেকে কিডনি কেটে নিতো। এই চক্রটি এর আগে অজ্ঞান পার্টির সদস্য ছিল। এখন তারা পেশাবদল করে কিডনি পাচারের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে পড়েছে।
চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তারের পর শনিবার দুপুরে ঢাকা মহানগর পুলিশের গণমাধ্যম কার্যালয়ে তিনি এ কথা জানিয়েছেন।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- আব্দুল জলিল, শেখ জাকির ইবনে আজিজ ওরফে শাকির, আশিকুর রহমান ওরফে জেবিন, ফজলে রাব্বি ও জিহান রহমান। এই চক্রের হাত থেকে উদ্ধার হওয়া দুই ভুক্তভোগী হলেন- আবু হাসান ও শান্ত।
মনিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে দু’টি চেতনানাশক ইনজেকশন ও সিরিঞ্জ, একটি ধারালো ছোরা এবং একটি তোয়ালে উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘জলিল বিভিন্ন সময় ভারতে গিয়েছিল কিডনি বিক্রি করতে। সে গত ১০ বছর ধরে এ অপরাধের সঙ্গে জড়িত।’
এই অপরাধের সঙ্গে বাংলাদেশের কোনো হাসপাতাল বা ক্লিনিক জড়িত রয়েছে কি না তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘জলিল কিডনি বিক্রির উদ্দেশ্যে আবু হাসানকে গ্রাম থেকে ঢাকায় নিয়ে আসে। একটি কিডনির বিনিময়ে সিএনজি ও টাকার প্রলোভন দেখায় সে। অপরদিকে শান্তকে পূর্ব পরিচিত আশিকুর তার চাচীকে রক্ত দেয়ার নাম করে গ্রাম থেকে ঢাকায় নিয়ে আসে।’
‘যাওয়া-আসার খরচ ও ২০ হাজার টাকার প্রলোভন দেখিয়ে তাকে ঢাকায় নিয়ে আসে আশিকুর। রক্ত দেয়ার সময় তারা চেতনানাশক ওষুধ দিয়ে শান্তর কিডনি কেটে নেয়ার পরিকল্পনা করেছিল চক্রটি। কিডনি অপসারণের পর শান্তকে হত্যা করে বুড়িগঙ্গা নদীতে ফেলে দেয়ার অথবা অন্য নামে লঞ্চে রুম বুকিং করে লাশ সুটকেসে ঢুকিয়ে সেখানে ফেলে রাখার পরিকল্পনাও ছিল তাদের।’ বললেন মনিরুল ইসলাম।

এক গানের দর্শক ১১ লাখ

এক গানের দর্শক ১১ লাখ

‘শুধু তোমর জন্য এখন/ কত স্বপ্ন দেখে মন’ এই এক গান দিয়েই শ্রোতাদের মনে জায়গা করে নিয়েছেন কণ্ঠশিল্পী ধ্রুব গুহ। গত বছর ঈদুল আযহায় মুক্তি পায় তার প্রথম একক অ্যালবাম ‘শুধু তোমার জন্য’। ঐ অ্যালবামেই গানটি টাইটেল ট্র্যাক হিসেবে স্থান পায়। অ্যালবামটি প্রকাশ পাওয়ার পরপরই শ্রোতা মহলে ব্যাপক সাড়া ফেলে দেয় গানটি। যার ফলশ্রুতিতে ধ্রুব তার এই গানটির মিউজিক ভিডিও নির্মাণ করে এ বছরের শুরুর দিকে ভিডিওটি আপলোড করেন ইউটিউবে। কিন্তু মাত্র আট মাসে গানটি প্রায় ১১ লাখ দর্শক দেখেছেন। 
‘শুধু তোমার জন্য’ গানটির মিউজিক ভিডিও নির্মাণ করেছে সিনেআর্ট প্রডাকশন। গানটিতে মডেল হয়েছেন সময়ের আলোচিত মডেল সিয়াম এবং শাহতাজ। প্রিন্স রুবেলের কথায় গানটির সুর এবং সংগীতায়োজন করেছেন তরিক আল ইসলাম।
এ প্রসঙ্গে ধ্রব গুহ বলেন, ‘আমি সত্যিই অভিভূত। দর্শক যে আমাকে এত ভালোবাসা দিবেন আমি চিন্তাও করতে পারিনি। তবে আমি আমার সেরা গায়কি দেয়ার চেষ্টা করেছি এই গানে। গানটির কথা, সুর ও সংগীত ছিলো অসাধারণ। আর মিউজিক ভিডিও নির্মাণের ক্ষেত্রেও আমি ব্যতিক্রমী ভাবনা তুলে ধরেছি। এই কারণেই হয়তো দর্শক শ্রোতা গানটি পছন্দ করেছেন।’
এদিকে দেশের সংগীতাঙ্গনে অনেকটা পথ পারি দিতে চান ধ্রুব। শ্রোতাদের দিতে চান ভালো ভালো গান। সম্প্রতি এ শিল্পীর ‘যে পাখি ঘর বোঝেনা’ শিরোনামে আরও একটি মিউজিক ভিডিও প্রকাশ পেয়েছে। 

Tropical storm losing strength as it nears Florida, 20 dead in Dominica

Tropical storm losing strength as it nears Florida, 20 dead in Dominica

ইসলামের ছায়াতলে মালয়েশিয়ার পপ তারকা

ইসলামের ছায়াতলে মালয়েশিয়ার পপ তারকা

ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন মালয়েশিয়ার বিখ্যাত পপ তারকা স্টেসি আনাম। বাকিটা জীবন তিনি ইসলামী জীবন ধারায় কাটানোরও ঘোষণা দেন। চুপিসারে নয়, সংবাদ সম্মেলন করে তিনি বিষয়টি জানিয়ে দিয়েছেন।

ছেলেবন্ধু কারণে তার ইসলাম ধর্ম গ্রহণের কারণ কিনা জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, এমন কোনো বিষয় নয়। তার প্রেম এখন ইসলামের সঙ্গেই হয়ে গেছে। তিনি অনেক চিন্তা ভাবনা করেই ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন।

উল্লেখ্য, গত কয়েক বছর যাবত তার ইসলাম ধর্ম গ্রহণের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল। সম্প্রতি সংবাদ সম্মেলন করে তা প্রকাশ করা হয়। 

গভীর সমুদ্রের নীচে বিষ্ময়কর এক যাদুঘর ।

গভীর সমুদ্রের নীচে বিষ্ময়কর এক যাদুঘর ।

2daef18713_94473170_o2
যাদুঘর টির মধ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে সমুদ্রের নানা প্রজাতির জীবন্ত মাছ। যা দেখলে মনে হয় পানির নিচে চলমান আলাদা একটি জগত। এমনকি সেখানে অবাধে সাতারও কাটা যাবে। বিরল এই যাদুঘর টি তৈরি করেছেন যুক্তরাজ্যের বিখ্যাত ভাস্কর জেসন দ্য ক্লেয়ার্স টেইলর।
টেইলর যাদুঘরটির ভাস্কর্যগুলো তৈরির জন্য ব্যবহার করেছেন বিশেষ এক ধরনের সিমেন্ট। এই সিমেন্ট সাধারণ সিমেন্টের চেয়ে প্রায় ১০ গুণ বেশী শক্তিশালী।
তাছাড়া এ সিমেন্টগুলো সাধারণত প্রবাল বান্ধব। এই সিমেন্ট দিয়ে ভাস্কর্য তৈরি করা হয়েছে যাতে ভাস্কর্যগুলোতে খুব সহজেই প্রবাল দানা বাঁধতে পারে।
সেখানে স্থাপন করা ভাস্কর্যগুলোর ওজন প্রায় ১২০ টনেরও বেশি। ভাস্কর্যগুলো পানিতে ভেঙ্গে পড়ার আশংকা নেই। তবে ভাস্কর্যগুলোর বড় শত্রু হয়ে দাঁড়িয়েছে সেখানকার আবহাওয়া।
কারণ, প্রায়ই সেখানে হ্যারিকেন ঝড়ের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের তাণ্ডব চলে! আর এই তাণ্ডবে যে কোনো মুহূর্তে লণ্ডভণ্ড হয়ে যেতে পারে স্বপ্নের এই জাদুঘর টি।

3adea33d31_94473139_o2
4bee7f6b96_94473034_o2

12f3d671bb_94473030_o2
a65511e6e9_94473104_o2

c36abe0122_94473112_o2

c230d292b4_94473070_o2
c16966112a_94473129_o2d20f47eb40_94473119_o2d87b59f4ee_94473054_o2

d5698b3852_94473063_o2


efd6487ea6_94473076_o2

5cd8e7961f_94473152_o2

শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০১৫

পারমাণবিক অস্ত্রে বিশ্বের তৃতীয় হতে যাচ্ছে পাকিস্তান

পারমাণবিক অস্ত্রে বিশ্বের তৃতীয় হতে যাচ্ছে পাকিস্তান

আগামী পাঁচ থেকে ১০ বছরের মধ্যেই পরমাণু অস্ত্র মজুদের দিক থেকে বিশ্বের তৃতীয় অবস্থানে চলে যেতে পারে পাকিস্তান। দেশটি যেভাবে দ্রুত পারমাণবিক যুদ্ধাস্ত্র (ওয়ারহেড) মজুদ করছে, এতে ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যকে পেছনে ফেলা সময়ের ব্যাপার মাত্র। অর্থাৎ, পারমাণবিক অস্ত্রের মজুদে আগামী এক দশকে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার পরই হতে পারে পাকিস্তানের স্থান। যুক্তরাষ্ট্রের প্রকাশিত প্রতিবেদনে এমন দাবি করা হয়েছে। খবর ওয়াশিংটন পোস্টের।
প্রতিবেদনে বলা হয়, পারমাণবিক শক্তির অধিকারী ভারতের ভয়ে পারমাণবিক অস্ত্রাগারে প্রতিবছর ২০টি করে যুদ্ধাস্ত্র যুক্ত করছে পাকিস্তান।
আন্তর্জাতিক শান্তি বিষয়ক কার্নেগি এনডাওমেন্ট ও স্টিমসন সেন্টারের প্রতিবেদনের সূত্রে ওয়াশিংটন পোস্ট বলছে, আগুয়ান বছরগুলোতে পাকিস্তানের কাছে অতি-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের বড় ধরনের মজুত থাকায় দেশটির পক্ষে দ্রুত স্বল্পমাত্রার পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে এগিয়ে থাকা সম্ভব। অন্যদিকে ভারতের কাছে রয়েছে সমৃদ্ধ প্লুটোনিয়ামের বিশাল মজুদ, যা উচ্চক্ষমতার পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে কাজে লাগানো সম্ভব। কিন্তু দেশটি এসব প্লুটোনিয়ামের বেশির ভাগই অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রে ব্যবহারযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনে ব্যবহার করছে বলে ধারণা করা হয়।
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ভারতের ১০০টি পারমাণবিক যুদ্ধাস্ত্রের বিপরীতে পাকিস্তানের রয়েছে ১২০টি। আগামী পাঁচ থেকে ১০ বছরের মধ্যে পাকিস্তানের এই যুদ্ধাস্ত্র অন্তত ৩৫০টিতে পৌঁছাতে পারে। এতে ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যকে পেছনে ফেলে পারমাণবিক অস্ত্রের মজুতে পাকিস্তান তৃতীয় অবস্থানে চলে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এক রুমের ভাড়া ২ লাখ ৭০ হাজার!

এক রুমের ভাড়া ২ লাখ ৭০ হাজার!

প্রবাসীদের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল শহরের তালিকায় উঠে এসেছে অ্যাঙ্গোলার রাজধানী লুয়ান্ডার নাম। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান মার্সার ‘কস্ট অব লিভিং’ শিরোনামে এক জরিপে দেখা যায়, প্রবাসী শ্রমিকদের জন্য লুয়ান্ডায় জীবযাত্রার খরচ সবচেয়ে বেশি।

টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবরে বলা হয়, লুয়ান্ডা শহরে এক বেডরুম বিশিষ্ট অ্যাপার্টমেন্টের মাসিক ভাড়া সাড়ে তিন হাজার ডলার যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা (১ ডলার ৭৭ টাকা ধরে)। অন্যদিকে এক জোড়া জিনস কিনতে খরচ হচ্ছে ২৪০ ডলার বা সাড়ে ১৮ হাজার টাকার বেশি! 

আরো আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে, লুয়ান্ডাকে এই স্থানে উঠে আসতে প্যারিস, নিউইয়র্ক এবং লন্ডনের মতো শহরকে পেছনে ফেলতে হয়েছে। তাও আবার পরপর তিনবারের মতো লুয়ান্ডা শীর্ষস্থান ধরে রাখল।

খবরে বলা হয়, অ্যাঙ্গোলার অর্ধেক জিডিপিতে অবদান রাখা তেল শিল্পের কারণেই শহরটি এতোটা ব্যয়বহুল। 

বিশ্বের শীর্ষ দশ ব্যয়বহুল শহর:

•    লুয়ান্ডা, অ্যাঙ্গোলা
•    হং কং, চায়না
•    জুরিখ, সুইজারল্যান্ড
•    সিঙ্গাপুর, সিঙ্গাপুর
•    জেনেভা, সুইজারল্যান্ড
•    সাংহাই, চীন
•    বেইজিং, চীন
•    সিউল, দক্ষিণ কোরিয়া
•    বার্ন, সুইজারল্যান্ড
•    ন'জামেনার, চাদ


সরকারকে কুকুরের সঙ্গে তুলনা করলেন মাহবুব!!

সরকারকে কুকুরের সঙ্গে তুলনা করলেন মাহবুব!!

বিএনপি চেয়ারপারসেনর উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেছেন, ‘সরকারের সাথে ভালো আচারণ করে লাভ হবে না। কারণ কুকুরের সাথে ভালো আচারণ করে কোনো কিছু পাওয়া যায় না। তাই যেমন কুকুর তেমন মুগুরের মতো আচারণ করতে হবে। তাহলেই সব স্বাধীনতা আদায় করা সম্ভব।’
শুক্রবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাব কনফারেন্স লাউঞ্জে দিগন্ত টেলিভিশনের সপ্তম বর্ষপূর্তিতে সম্প্রচার নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি শীর্ষক এক প্রতিবাদ সংহতি সম্মিলনে তিনি এ কথা বলেন। দিগন্ত টেলিভিশনের উদ্যোগে এই প্রতিবাদ সংহতি সম্মিলন অনুষ্ঠিত হয়।
রাজনৈতিকদের উদ্দেশ্য করে মাহবুব হোসেন বলেন, ‘গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার আজ ভুলণ্ঠিত। তাই শুধু সেমিনার ও আলোচনার মাঝে সীমাবদ্ধ থাকলে এই সরকারের কাছ থেকে কোনো কিছু আদায় করা সম্ভব নয়। তাই সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে স্বৈরাচার সরকারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘বিএনপিও যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবি চায়। কিন্তু সেই বিচার হতে হবে অবশ্যই আন্তর্জাতিক মানের।’
বিএনপির এ নেতা বলেন, ‘দিগন্ত টিভি বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ করতে চায়। তাই বর্তমান সরকার দিগন্ত টেলিভিশনকে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ করতে দেবে না বলেই তাদের সম্প্রচার বন্ধ করে দিয়েছে।’
দিগন্ত টেলিভিশনের ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক মাহবুবুল আলম গোরার সভাপতিত্বে প্রতিবাদ সংহতি সম্মিলনের আরো বক্তব্য রাখেন সাবেক বিচারপতি আব্দুল রউফ, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন, কবি ফরহাদ মজহার, গণস্বাস্থ্য বোর্ডের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী প্রমুখ।

আবারও রক্তাক্ত ভারত-পাকিস্তান সীমান্ত, নিহত ১০

আবারও রক্তাক্ত ভারত-পাকিস্তান সীমান্ত, নিহত ১০

পাকিস্তান ও ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্বু ও কাশ্মীর সীমান্তে আবারও দুই দেশের সীমান্তরক্ষীদের মধ্যে গোলাগুলি হয়েছে। মধ্যরাত থেকে শুরু হওয়া গোলাগুলি শুক্রবার সকাল পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। এসব ঘটনায় দুই দেশের ১০ বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আহত হয়েছে কমপক্ষে ২৫ জন।
আরএস পুরা ও আরিনা সেক্টর এলাকায় পাকিস্তানি সেনাদের গুলি ও মর্টার হামলায় ভারতের তিনজন স্থানীয় নাগরিক নিহত হয়েছে বলে টাইমস অব ইন্ডিয়া অনলাইনের খবরে জানানো হয়। আহত হয়েছে ১৬ জন।
এদিকে পাকিস্তানের ডন অনলাইন জানিয়েছে, গোলাগুলিতে তাদের দেশের সাত বেসামরিক নাগরিক মারা গেছে। আহত হয়েছে প্রায় আট জন।
ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) বরাত দিয়ে টাইমস অব ইন্ডিয়া অনলাইন জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক সীমান্তের কিষাণপুর, জোরা ফরম, জুগনো চক, নাবাপিন্ড, হারনা, সিয়া, আবদুল্লিয়ান ও চান্দু চক এলাকায় পাকিস্তানের সেনারা গুলি ও মর্টার ছোড়ে। হামলার সময় স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রও ব্যবহার করেছে বলে জানিয়েছে বিএসএফ।
জবাবে ভারতের জওয়ানরা পাল্টা মর্টার হামলা চালায়। বিএসএফের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নিয়ন্ত্রণ রেখার দিকে ভারতীয় সেনা মোতায়েন অব্যাহত রয়েছে। পাকিস্তানের হামলার পাল্টা জবাব দিতে আমাদের প্রস্তুতি রয়েছে।
এদিকে ডন জানিয়েছে, শুক্রবার সকালে সিয়ালকোটের চারবাহ, হারপাল, চাপরা ও সুচিতগর এলাকায় ভারতীয় জওয়ানরা গোলা ছুড়ে মারলে সাতজন স্থানীয় নাগরিক নিহত হয়। আহত হয় আরো অনেকে। পাকিস্তানের পাঞ্জাব রেঞ্জ জানিয়েছে, প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য তারাও পাল্টা হামলা চালিয়েছে।
পাঞ্জাব রেঞ্জের একটি সূত্র জানায়, সিয়ালকোট সীমান্তের দিকে বেশ কয়েকজন পাকিস্তানি নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। মারা গেছে অনেক গবাদি পশুও। সাধারণ নাগরিকদের ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়ে গেছে।
পাকিস্তান ইস্যুকে অন্তর্ভুক্ত না করায় গত ২৩ আগস্টের উভয় দেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা পর্যায়ে আলোচনা বাতিল করে পাকিস্তান। এর পর থেকে কাশ্মীরে ভারত ও পাকিস্তানের আন্তর্জাতিক সীমান্ত এলাকায় উভয় দেশের মধ্যে কয়েকবার গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে।

ওয়ান এলেভেনে তফায়েলদের ক্ষমা করতে পারি কিন্তু ভুলতে পারি না ; প্রধানমন্ত্রী ।

ওয়ান এলেভেনে তফায়েলদের ক্ষমা করতে পারি কিন্তু ভুলতে পারি না ; প্রধানমন্ত্রী ।

মন্ত্রিসভার প্রভাবশালী মন্ত্রী ও দলে প্রভাবশালী নেতাদের কড়া সমালোচনা করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২১ আগস্ট গ্রেনেডহামলা ও ২০০৭-এর ‘ওয়ান ইলেভেন’ পরবর্তী সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে দলের শীর্ষনেতাদের ‘হাসিনাবিরোধী’ অবস্থান নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, ‘আই ক্যান ফরগিভ বাট নেভার ফরগেট’।

গতকাল সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা বৈঠকের অনির্ধারিত আলোচনাকালে একথা বলেন বলে নিশ্চিত করেছেন সরকারের একজন মন্ত্রী।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বারবার আমাকে হত্যার উদ্দেশে হামলা করা হয়েছে। কিন্তু আল্লাহর রহমতে আমি এখনও বেঁচে আছি, সুস্থ আছি। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ২১ আগস্ট গ্রেনেডহামলায় তারেক জিয়া সরাসরি জড়িত ছিল। তার নিয়ন্ত্রণে থাকা হাওয়া ভবনে আমাকে হত্যা মিশন সফল করার লক্ষ্যে একাধিক বৈঠক হয়েছে। কারা কারা সেসব বৈঠকে ছিল বা পরিকল্পনায় কারা কারা জড়িত তার অনেক কিছুই এখন আমি জানি।

শেখ হাসিনা এসময় হঠাৎই তারেক জিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশে অবস্থানরত তৎকালীন ভারতীয় রিসার্স অ্যান্ড এনালাইসিস উইং ‘র’-এর কতিপয় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নিয়ে কথা বলেন। তিনি মন্ত্রিসভায় জানান, সেসময় তারেক জিয়ার সঙ্গে ‘র’-এর একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। যেটা ছিল পারিবারিক পর্যায়ের। উদাহরণ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী জানান, তারেক জিয়ার মেয়ের জন্মদিনে পারিবারিক অনুষ্ঠানের আমন্ত্রিত অতিথি ছিলেন ‘র’-এর বেশ কজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশে নেওয়া আরেক পরিকল্পনা সম্পর্কে এসময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, টুঙ্গিপাড়ায় পূর্ব নির্ধারিত একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার উদ্দেশে বাসা থেকে বের হওয়ার ঠিক পূর্বমুহূর্তে আমার হাতে একটি কাগজ আসে। যেটিতে লেখা ছিল- অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া ঠিক হবে না। আপনার জীবন সংকটাপূর্ণ। আর যদি বের হতেই হয়, অনুষ্ঠানে যোগ দিতে হয়- তাহলে বিশেষভাবে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয় তাতে।
এ ঘটনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সেসময় এরকম একটি কাগজ আমার হাতে আসার কথাছিল না। কিন্তু এসেছে। এটা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ি আমি। ভাবতে থাকি এটা কি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার হাতে পৌঁছানো হয়েছে নাকি ভুলে কাগজটি আমার হাতে পৌঁছেছে। তিনি বলেন, যদি টুঙ্গিপাড়ায় বড় ধরনের কোনো ঘটনা ঘটতো বা সেখানে যদি আমি মারা যেতাম তাহলে বিএনপি সরকার জনগণের কাছে বলতে পারতো আমরাতো আগেই তাকে (শেখ হাসিনা) জানিয়েছিলাম। কিন্তু তিনি আমাদের কথা শোনেননি। অথবা এটি ভুল করেও আমার কাছে এসে থাকতে পারে। এভাবেই আমাকে বারবার গোপনে এবং কোনো কোনো সময় প্রকাশ্যে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে।

ওয়ান ইলেভেনের বিতর্কিত সরকার আমলে নিজ দলের শীর্ষ নেতাদের শেখ হাসিনার বিরোধিতা প্রসঙ্গে বলেন, সেসময় বাংলাদেশে নেতৃত্বের সংকট শুরু হয়। বিশেষ বিশেষ গোষ্ঠী ‘মাইনাস টু ফর্মুলা’ বাস্তবায়নে উঠে পড়ে লাগে। যেভাবেই হোক মাইনাস টু ফর্মুলা বাস্তবায়ন করতে হবে। এতে অনেক নেতাই বিভ্রান্তিতে পড়ে যায়। আর এ সুয়োগটাই নেয় ষড়যন্ত্রকারীরা।
  
তিনি বলেন, এখানে উপস্থিত আমার মন্ত্রিসভার কয়েকজন সিনিয়র নেতাও সেসময় ওই ষড়যন্ত্রের পক্ষে সাড়া দেন। বর্তমান শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমদ, আওয়ামী লীগের সাবেক তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অধ্যাপক আবু সাইয়্যিদ, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুকুল বোস, সাংগঠনিক সম্পাদক মান্নানসহ অনেকেই আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রেও লিপ্ত হন, আমাকে দল থেকে দেশ থেকে বহিষ্কার করার জন্য। কিন্তু তাদের এ ষড়যন্ত্রও সফল হয়নি। অথচ আমাকে মাইনাস করার জন্য আমার দলের শীর্ষ এসব নেতাও সেসময় ‘র’-এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রক্ষা করেন। এসব কথা আমার সব সময়ই মনে পড়ে। এজন্য ‘মে বি আই ক্যান ফরগিভ বাট নেভার ফরগেট’।

এ ব্যাপারে সরকারের প্রভাবশালী একজন মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী যখন নাম ধরে ধরে সমালোচনা করছিলেন তখন মন্ত্রিপরিষদে উপস্থিত সদস্যরা মাথা নিচু করে চুপ করেছিলেন। মন্ত্রিসভার এ সদস্য আরও বলেন, আমি এবার প্রথম এ ধরনের অভিজ্ঞতা পেলাম। প্রধানমন্ত্রী যে চোখে চোখ রেখে এভাবে কারও সমালোচনা করতে পারেন এবং অপ্রিয় সত্য কথা বলতে পারেন- এটা এবারই আমি প্রথম দেখলাম।