সকাল থেকেই আবহাওয়াটা কেমন মেঘলা মেঘলা। গরম তেমন একটা নেই। তবুও কলকাতা শহরে উত্তেজেনার পারদ চরমে। সকাল থেকেই ব্যস্ত শহর আজ অন্য মেজাজে। ২২ গজের যুদ্ধ খাতায় কলমে বিরাট কোহলি, শাহিদ আফ্রদিদের হলেও সৈনিক যেন সবাই। এখন শুধু মাঠে নামার অপেক্ষা। নিরাপত্তার কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচটি প্রায় শেষ মুহুর্তে ধরমশালা থেকে কলকাতায় সরিয়ে আনতে হয়েছে কিন্তু বিশ্বকাপের এই বাড়তি পাওনাটাই যেন কলকাতাকে ওই ম্যাচের একটা টিকিটের জন্য পাগল করে তুলেছে। ইডেনের কর্মকর্তারা টিকিটের দাবি সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন, ওদিকে স্টেডিয়াম-টিম হোটেল থেকে শুরু করে শহরের আনাচ-কানাচ ঘিরে দেয়া হয়েছে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তায়। ইডেন গার্ডেন্স থেকে ঢিলছোঁড়া দূরত্বে গঙ্গার ধারে কলকাতার বাবুঘাট। সেই ঘাটের ধারে, স্টেডিয়ামের আশেপাশে সর্বত্র ছোট ছোট জটলা। সন্ধ্যার ম্যাচের একটা টিকিটের জন্য চরম আকুলিবিকুলি। উড়ো গুজবের পেছনে বিস্তর ছোটাছুটি করে অনেকেই নিরাশ হচ্ছেন কিন্তু যারা টিকিট পেয়েছেন আর যারা পাননি, সবাই বলছেন এই পাগলামি কলকাতাকেই মানায়। ‘দেখুন এটুকু তো হবেই। সত্তর হাজার আসনের স্টেডিয়াম, এমন কী লাখ লাখ লোক বসার ব্যবস্থা থাকলেও তাতেও দেখতেন সামাল দেয়া যেত না। কলকাতায় ক্রিকেট এতটাই জনপ্রিয়’, বলছিলেন কোনোক্রমে টিকিট জোগাড় করতে পারা এক যুবক। তবে মহামেডান স্পোটিং মাঠের কাউন্টার, যেখান থেকে সামান্য কিছু টিকিট বিলি করা হচ্ছিল, অনেককেই দেখা গেল টিকিট যেভাবে বিক্রি করা হয়েছে তার পদ্ধতি নিয়ে প্রবল ক্ষুব্ধ। ইডেন গার্ডেন্সের মালিকানা যাদের, সেই ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গল বা সিএবি-র নতুন সচিব হয়েছেন অভিষেক ডালমিয়া, প্রয়াত জগমোহন ডালমিয়ার ছেলে। এই বিরাট ম্যাচের ব্যাপারে তিনি অবশ্য বিবিসিকে বলছিলেন, ‘দুশ্চিন্তার কিছু নেই, দেখবেন ইডেন ঠিক আবার বাজিমাত করবে।’ অভিষেক ডালমিয়ার কথায়, ‘ইডেন তো আগে বিশ্বকাপের ফাইনালও আয়োজন করেছে। এমন তো নয় যে আগে আমরা এত গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ করিনি। ফলে এবারেও দেখবেন, দর্শকরা দারুণ একটা ম্যাচ উপহার পাবেন।’ কলকাতার একটা বৈশিষ্ট্য হল- শোয়েব আখতার, ইমরান খান বা আসিফ ইকবালের মতো পাকিস্তানি ক্রিকেট তারকারাও এ শহরে যে পরিমাণ ভালবাসা পেয়েছেন তা ভারতের অন্য কোনো শহরে বোধহয় ভাবাই যায় না। বর্ষীয়ান পাকিস্তানি ক্রিকেট সাংবাদিক আবদুর রশিদের তাই বলতে দ্বিধা নেই, পাকিস্তানের জন্য ভারতে এর চেয়ে ভালো মাঠ বোধহয় কিছু হতেই পারত না। তিনি বলছিলেন, ‘এটা পাকিস্তানের জন্য খুব পয়া মাঠ। চার চারবার ভারতকে তারা ওয়ান-ডেতে এখানে হারিয়েছে। হ্যাঁ, বিশ্বকাপে আমরা কখনো ওদের হারাইনি ঠিকই, কিন্তু কে বলতে পারে পয়া ইডেনেই আমাদের কপাল খুলে যাবে না? আর তা ছাড়া এ মাঠের মেজাজটাই আলাদা – দর্শক এখানে ক্রিকেটের সমঝদার, এ মাঠের একটা ইতিহাস আছে, ঐতিহ্য আছে।’ আবদুর রশিদ যেটাকে ক্রিকেটের জন্য ভালোবাসা বলছেন, ইডেনের প্রধান প্রবেশপথের সামনে দুই প্রবীণ সিএবি সদস্য – যারা পঞ্চাশ বছর ধরে এ মাঠে খেলা দেখতে আসছেন – তারা আবার বাঙালির আবেগ বলেই এটাকে বর্ণনা করতে চান। এম এন ভৌমিক ও পিএন ঘোষ নামে সিএবির ওই দুই ভেটারেন বলছিলেন, ‘টিকিটের জন্য এমন হুড়োহুড়ি তো কলকাতাতেই হবে – কারণ বাঙালি খেলা আর মেলা নিয়েই বুঁদ হয়ে আছে। আর পাকিস্তান ম্যাচ তো আলাদা জিনিস!’ বিশ্বকাপে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ নিয়ে একটা কথা খুব বলা হয় – এই ম্যাচে জিতলে তারপর বিশ্বকাপ হারলেও কোনো দুঃখ নেই। ম্যাচের একটা টিকিট যারা বগলদাবা করতে পেরেছেন, তাদের মধ্যে আজ প্রায় সেই বিশ্বজয়ের অনুভূতি। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের ক্রিকেট সাংবাদিক সৌমিক চক্রবর্তী বিবিসিকে বলছিলেন, ‘সেই ১৯৮৭তে বিশ্বকাপে ভারত-পাকিস্তান ফাইনাল ইডেনে হবে কলকাতা সেই আশা করে বসেছিল। কিন্তু সে বার অ্যান্টি-ক্লাইম্যাক্সে দুটো দলই সেমিফাইনালে হেরে যায় আর তার প্রায় তিরিশ বছর পর আজ ইডেনের স্বপ্ন পূরণ হতে যাচ্ছে, বিশ্বকাপের কোনো ম্যাচে এ মাঠে মুখোমুখি হচ্ছে দুটো দেশ।’ তিনি অবশ্য মনে করেন, ভারত ও পাকিস্তান দুটো দলেরই পরস্পরের প্রতি ভালো শ্রদ্ধা আছে। মাঠে অল্পস্বল্প ঝগড়াঝাঁটি হলেও দুই দলই খেলার স্পিরিট বজায় রেখে চলবে বলেই তার বিশ্বাস এবং উডেন শেষ পর্যন্ত একটা দারুণ ম্যাচ উপহার পাবে।
শনিবার, ১৯ মার্চ, ২০১৬
বৃহস্পতিবার, ১৭ মার্চ, ২০১৬
ফ্রিল্যানসিং – এ মাসে ৭০ হাজার টাকা !
ফ্রিল্যানসিং হলো টাকার গাছ, ঝাঁকি দিলেই পড়ে! সাজ্জাদ যেভাবে ৫ ঘন্টা কাজ করে মাসে ৭০ হাজার টাকা উপার্জন করছেন, আপনিও করতে পারেন !
ফ্রিল্যানসিং-এ সত্যিই অনেক টাকা বানানো যায় । এটা কোন ফাজলামো নয় । নতুন ফ্রিল্যানসারদের প্রতি সাজ্জাদের পরামর্শ: কাজের প্রতি সৎ থাকবেন। প্রথম দিকে কঠোর পরিশ্রম করবেন। আর কখনোই চুরি, ধোঁকাবাজি করবেন না। অনেকের এই ধরনের সৎ ইচ্ছা থাকলেও পারছে না। আপনি কিভাবে পারলেন ? আপনি তো ঢাকায়ও থাকতেন না ?
এই প্রশ্ন করা হলে ময়মনসিং জেলার কৃতি ফ্রিল্যানসার সাজ্জাদের সরল উত্তর : “ফ্রিল্যানসিং হলো টাকার গাছ । ঝাঁকি দিলেই পড়ে । কিন্তু ঝাঁকিটা কে দিচ্ছে তার উপর নির্ভর করে । আমি ইংরেজিতে দুর্বল ছিলাম, খুবই দুর্বল ছিলাম। দুই বছর আগের কথা, ২০১৪ এর মার্চ। ইংলিশ টুডের অনলাইন ইংলিশ সম্পর্কে জানতে পাই। অনলাইন কোর্সের ফি এত কম দেখে প্রথমে বিশ্বাসই করতে পারিনি। হাতি ঘোড়া গেল তল, পিপড়া বলে কত জল-এমন একটা ধারণা তৈরী হয়েছিল প্রথমে। প্রতারণার এক নতুন ফাঁদও মনে হয়েছিল। ইংরেজির সব দিকে দক্ষ হতে আমি অনেক টাকা আর সময় নষ্ট করেছি এখানে সেখানে কোর্স করে। এখন বুঝি সব সেকেলে (backdated) । কিন্তু শেখার প্রয়োজন ছিল আমার, ইচ্ছা ছিল অদম্য। বুক ভরা আশা আর মনে অনেক সন্দেহ নিয়ে তাদের কর্তা ব্যক্তির সাথে কথা বলতে চাইলাম। তিনি কবির স্যার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের IBA-এর MBA করা শুনে সন্দেহ কিছুটা দূর হলো। ভাবলাম, অন্তত প্রতারক হবে না। দেখি কথা বলে।কিছুক্ষণ কথা বলে ভালো লাগে। IBA-তে কারা চান্স পায়, বুঝলাম। উনার সাথে সেদিন আমি অনেকক্ষণ কথা বলেছিলাম, যা এখানে বললে সময় লাগবে। তার নির্দেশ ফলো করতে মন থেকেই সায় দিল। মনে পড়ে, মাত্র ২,৫০০ টাকা দিয়ে তার নির্দেশে অনলাইনে স্পোকেন ইংলিশের ভিডিও কোর্স শুরু করি। সেই ভিডিওগুলো আমার কাছে এখনো আছে।”
“আমার কোথাও যদি বুঝতে সমস্যা হতো, আমি প্রশ্ন করলেই রিপ্লাই দিত।টিচারের সাথে অনলাইনে চ্যাট করে বুঝে নিতাম। টিচারকে রাত ১১টা পর্যন্ত পাওয়া যায়। কোনো কোনো অনলাইন কোর্সে কবির স্যার নিজেই চ্যাটে থাকতেন। ৬ মাসের মধ্যেই আমি নিজেকে নতুন করে সৃষ্টি করি, আমি যেমন চেয়েছিলাম! English Today (www.englishtoday.co) -র অনলাইন কোর্সগুলো ধৈর্য ধরে শেষ করলে আমার মতে ১ বছরেই একজন আমার মতো ফ্রিল্যানসার হওয়ার দক্ষতা অর্জন করতে পারবে। কবির স্যারের সাথে আগে কথা হলে আমার অত সময় আর অত টাকা নষ্ট হতো না। এখন আমি ফ্রিল্যানসার তৈরী করার মতো অবস্থানে থাকতাম। শেষ ভালো হয়েছে বলে আমার কোনো আফসোস নাই।”
ফ্রিল্যানসিং-এ আসলে একজন কত টাকা পর্যন্ত আয় করতে পারে ?
এই প্রসঙ্গে সাজ্জাদের সোজা উত্তর, “প্রস্তুত না হয়ে ফ্রিল্যান্সিং শুরু করলে ধাক্কা খাবেন। হয় আর উঠতে পারবেন না, না হয় ‘এই মাত্র ৫ মিনিট কাজ করে ৫০০ টাকা আয়’ ফেইসবুকে এই ধরনের ‘ফ্রিল্যানচোর’ হয়ে থাকতে হবে। ২০১০ সালের BASIS(Bangladesh Association of Software and Information Services)-এর এক হিসেবে বাংলাদেশে ১ লক্ষ ফ্রিল্যানসার কাজ করে। তারা দৈনিক ১ কোটি টাকা অর্থাৎ একজন আয় করে ১০০ টাকা, মাসে ৩,০০০ টাকা। মাসিক গড় আয়ের এই করুণ দশা কেন, তা পাঠক হয়তো বুঝতে পারছেন। ইংরেজি, ইংরেজি এবং ইংরেজি। আমার সমান আয় হলে এই ১ লক্ষ ফ্রিল্যানসার প্রতিদিন ২০ কোটি টাকা আনতে পারত তখন।” সাজ্জাদের সমান আয়ের কথা বাদই দেই । এখানে আরেক ফ্রিল্যানসার ফয়সালের থেকেও জানার আছে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য । অন্তত তার মতো হলেও এই এক লক্ষ্ বাংলাদেশী ফ্রিল্যানসারের একেক জনের প্রতি মাসে ২০ হাজার টাকা আয় হতো।
যার যার, তার তার – আপনি যা, তাই পাবেন !
সাজ্জাদ বলেন “এটা চরম সত্য এই জগতে। ফ্রিল্যানন্সিং মার্কেটের বিশালতা বোঝা কঠিন। তথ্য -গরিব মানুষের যা হয় আর কি! Payoneer-এর এক জরিপে দেখায়, ২০১৫ সালে পাকিস্তানেই এক এক ফ্রিল্যানসার ঘন্টায় পায় ২০ ডলার, মানে ১,৬০০টাকা। কোথায় আছেন? প্রচুর টাকা আছে, দেখিয়ে দিলাম। কিন্তু আপনার উপার্জন কি আমি করে দেব? Payoneer-এর এই রিপোর্টটি ডাউনলোড করে রাখবেন। কাজে দেবে।”
ঢাল নাই তলোয়ার নাই নিধিরাম সর্দার !
সাজ্জাদ আরো বলেন, “আমি দেখি অনেকের কত দম্ভ, কত ভালো ইংরেজি জানে – এমন ভাব নিয়ে আমার কাছে আসে ফ্রিল্যানন্সিং এর আইডিয়া নিতে। ‘My grandfather was a dog’-এই বাক্যটি ভুল কোথায় বা ঠিক আছে কিনা- প্রশ্ন করে তাদের সাথে একটু মজা করি। আমতা আমতা করলে বলে দেই, “আমার দাদা একটা (…) ছিল! ব্রাকেটের মধ্যে কি হবে, তা সবাই বুঝে গেছেন! এভাবে বলায় মনে কষ্ট পেলে দুঃখিত!”
“এই বাস্তবতা থেকে বের হয়ে আসতে হবে। আমিও এই দলেই ছিলাম। কিন্তু এখন আমি কাজের জন্যই প্রতিদিন অনলাইনে ইংরেজি পত্রিকা পড়ি। ১০ মার্চে রয়টার’স এর একটা নিউজ পড়ছিলাম। ঘটনাটা সবাই জানেন। নিচে পাঠকদের জন্য সেটা অনুবাদ করে দিলাম। ইংরেজি নিউজের লিংকও আছে। বাংলার সাথে ইংরেজিটাও দেখে নেবেন। ইংরেজিটা পড়ে বোঝার জন্য বলছি না। একটু দেখবেন। আর আমার বাংলা অনুবাদটা পড়বেন। আমি কেন আমার যোগ্যতা অনুযায়ী উপার্জন করতে পারছি, তা বুঝতে পারবেন। আর ইংরেজিতে ভুল করলে কি মাশুল দিতে হয়, তা’ও দেখবেন। (চোরের এই ভুলের জন্য যদিও ভাগ্যক্রমে বাংলাদেশ ব্যাংক বড় চুরি থেকে রক্ষা পেয়েছে!)
সবাই বলে ইংরেজি, ইংরেজি- ইংরেজিটা আসলে কোথায় দরকার !
“ফ্রিল্যান্সিং করতে ইংরেজির দক্ষতা কেন এবং কোথায় দরকার? Skype- তে ক্লায়েন্টদের সাথে ঠিকঠাক ইংরেজিতে কথা বলা (speaking), তাদের কথা শুনে বুঝা(listening), বাক্যের গঠন, ভোকাবুলারি- র বানান ঠিক রেখে ইংরেজিতে ইমেইল করা (writing), কেও ইমেইল করলে তা পড়ে বোঝা এবং রেপ্লাই দেওয়া, নিয়মিত দেশ বিদেশের অনলাইনে ইংরেজি পত্রিকা পড়ে নিজেকে আপডেট রাখা (reading)। বলে রাখি, ইংরেজিতে গরুর রচনা পড়ে বুঝা আর ইংরেজি পত্রিকা পড়া অথবা বিদেশী ক্লায়েন্টদের ইমেইল পড়ে বুঝা হলো সেই ব্যবধান, যে ব্যবধান পার হয়ে আজ আমি এখানে।”
আপনার অনুবাদটি আমরা পড়ব। তার আগে আরেক ফ্রিল্যানসার ফয়সালের থেকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানি। তিনি এখনই মাসে প্রায় ২০,০০০ টাকা উপার্জন করেন। নতুন ফ্রিল্যানসাররা কি ধরনের সমস্যায় পড়ে, এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন:“৩ টি সমস্যা খুবই প্রকট।”
ঝামেলা কি আরো বাড়লো? একজন বলে ১ টা, আরেকজন বলে ৩ টা !
“হ্যাঁ, এই ৩ সমস্যা ঐ ১ সমস্যা ঘিরেই:
১. তারা ক্লায়েন্টদের ইংরেজিতে লেখা ইমেল পড়তে পারে না;
২. ফ্রিল্যানসিং প্লাটফর্মগুলোতে একাউন্ট খোলার জন্য ঠিক মতো তথ্য দিতে পারে না;
৩. ডলার আনার মাধ্যম যেমন পেপল, নেটেলার, পেওনিআর ইত্যাদি একাউন্টে লেনদেন সংক্রান্ত কোনো ঝামেলা হলে তারা ইমেইল পাঠায়। সেই ইমেইল বুঝতে পারে না। একাউন্ট লক হয়ে যায়, সাসপেন্ড হয় ।”
“তখন উপায় না দেখে বেচারা নতুন ফ্রিল্যানসার ফেইসবুকের গ্রুপে পোস্ট দেয়। আমার একাউন্ট লক, কি করব? ডিসকভারি চ্যানেলে দেখি, বন্য গরুর পাল নদী পার হচ্ছে। পানিতে কুমির। ডুব দিয়ে আছে। টার্গেট একটা বাচ্চা অথবা একটা দুর্বল গরু। অনভিজ্ঞ এই নতুন ফ্রিল্যানসার ফেইসবুকের গ্রুপে ওৎ পেতে থাকা কুমিরের খপ্পরে পড়ে। কুমির বলে, আমি এক্সপার্ট। দুই দিনেই সমাধান! ৫,০০০ টাকা লাগবে, বিকাশ করেন। ওহ! একাউন্ট খুলে যাবে, আবার ডলার আসবে! প্রতিদিন ‘এক’ ডলার ! আশাবাদী সেই বেচারার চোখ চকচকে হয়ে উঠে।”
“কিন্তু বিকাশ করার পর দেখে ওই নাম্বার বন্ধ। বার বার ফোন দেয়। শতবার। কিন্তু ফোন সেদিন একদমই বন্ধ। পরের দিন খুললেও রিসিভ করে না। মেসেজ। আকুতি। টাকা ফেরত দেন। কিভাবে দেবে, কুমিরের পেটে তো সেটা হজম হয়ে গেছে!”
“তারপর সে ক্ষুব্ধ হয়ে গ্রুপে আবার পোস্ট দেয়। তবে এবার অন্য কারণে। বলে, অমুক নাম্বারের অমুক বাটপারের সাথে কেও কোনো লেনদেন করবেন না। সে বুঝে না, কেন সে প্রতারিত হলো। ডলার আয়ের একাউন্টও লক। কোথায় যাবে সে? আরেক কুমিরের খপ্পরে পড়বে? এই কুমির আছে, অনেক আছে। নানাভাবে আছে আর বংশ বিস্তার করছে।”
ফয়সালের থেকে আরো একটি বিষয় জানার ছিল আমাদের। তারা যে ডলার আয় করে, তা তারা হাতে পায় কিভাবে? এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন , “পেপলে।” সবার জন্য একটু বিস্তারিত বলুন, পেপল থেকে ভাঙান কিভাবে? “ক্লায়েন্টরা আমাকে ডলার পাঠায়। আর সেই ডলার বিক্রি করে আমি টাকা নেই।” কোথায় বিক্রি করেন? “এখন আমার জন্য অনেক সহজ হয়েছে, যদিও প্রতারণার ফাঁদ সর্বত্র। ডলার লেনদেনে যারা ভুক্তভোগী, তারা এই ধরনের প্রতারণার কথা জানেন। ফেইসবুকে এমন অনেক বড় বড় গ্রুপ আছে যেখানে অ্যাডমিনরাই একটা প্রতারনার সিন্ডিকেট। অনেক মেম্বাররা তো নিয়মিত প্রতারণা করেই যাচ্ছে। যে কুমিরের কথা আগে বললাম। আমি Flexi Dollar-এর সাথে লেনদেন করি। আমি নিরাপদ। ”
ইংলিশের ভুলে বাংলাদেশ ব্যাংকের ৮ হাজার কোটি টাকা হ্যাকারদের হাতছাড়া !
ফ্রিল্যানসিং এর মাধ্যমে উপার্জনের এই আলোচনার মূল বিষয়ের একটি অনাকাংখিত কিন্তু প্রাসঙ্গিক রয়টার’স এর এই নিউজের কিছু অংশ অনুবাদ করে দিয়ে সাজ্জাদ পাঠকদের ভালোভাবে ইংরেজি জানার গুরুত্ব চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিলেন ।
গত ১০ মার্চের রয়টার্স এর একটি শিরোনাম : “How a hacker’s typo helped stop a billion dollar bank heist.” অর্থ : হ্যাকারের বানান ভুলের কারণে কিভাবে ১ বিলিয়ন ডলার চুরি হওয়া থামানো গেল।
বাংলাদেশ ব্যাংকের দুই সিনিয়র কর্মকর্তা জানান, হ্যাকাররা বাংলাদেশ ব্যাংকের সিস্টেম হ্যাক করে পেমেন্ট স্থানান্তরের জন্য তথ্য চুরি করে। এরপর হ্যাকাররা নিউইয়র্কের ফেডারাল রিজার্ভ ব্যাংকের কাছে বাংলাদেশ ব্যাংকের সিস্টেম থেকে অনুরোধ পাঠায় ফিলিপাইন ও শ্রীলংকার প্রতিষ্ঠানে টাকা পাঠানোর জন্য।
৪টি আবেদনের মাধ্যমে ফিলিপাইনে ৮১ মিলিয়ন ডলারের স্থানান্তর করতে সক্ষম হয় হ্যাকাররা। কিন্তু বানান ভুলের কারণে শ্রীলংকার একটি এনজিও-তে ২০ মিলিয়ন ডলার পাঠানোর পঞ্চম আবেদনটি স্থগিত করে দেয় Deutsche ব্যাংক।
হ্যাকাররা শ্রীলংকার ঐ এনজিও-র নামের বানানে foundation না লিখে ‘fandation’ লেখে। এই ভুল দেখে এই স্থানান্তরের জন্য নিযুক্ত Deutsche ব্যাংকের সন্দেহ হয়। তারা বাংলাদেশ ব্যাংকে এই ভুল শোধরানোর জন্য বললে এই মহা চুরির ঘটনা ফাঁস হয়ে যায়। এই ভুল না হলে হয়ত বাংলাদেশ ব্যাংকের পুরো ১ বিলিয়ন ডলারই চুরি হয়ে যেত!
হ্যাকার না, আপনি হবেন ডলার আর্নার !
সৎভাবে ফ্রিল্যানসিং-এ এই দুইজনের গল্পেই শেষ নয়। এমন আরো অনেক সফলতার গল্প আছে ফ্রিল্যানসিং জগতে। অনেকে এদের চেয়েও সফল। আশার কথা, ফ্রিল্যানসিং-এ আয়ের সুযোগ দিন দিন বেড়েই চলেছে। দুনিয়ার সব মানুষের তিন ভাগের এক ভাগ এখন ইন্টারনেটে। আরো আসছে। যত আসবে, তত ফ্রিল্যানসিং-এর সুযোগ। ফেইসবুককে দেখেন। যতবেশী ইউজার, ততবেশী জাকার্বার্গের আয়।কি খুশি সে, তার মুখে হাসি ছাড়া তার কোনো ছবিই দেখা যায় না। হবে না আবার! ফ্রিল্যানসিং-এর হিসাবটাও এমনি। যত বেশি বেশি মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করবে, ততবেশী ফ্রিল্যানসিং-এর সুযোগ বাড়বে। আপনার কি মনে হয়, ইন্টারনেটের ব্যবহার ভবিষ্যতে কমবে?
আপনাকে যোগ্য করে তুলুন, এখনি সচেষ্ট হন। আরামে দিন কাটিয়ে মনে করছেন, আহ কি আরাম! এভাবেই দিন চলে যাবে। হ্যাঁ, দিন ঠিকই যাবে। ৫ বছর পর ৬ নাম্বার গাড়িতে ঝুলে ঝুলে অথবা মানুষের ঠেলায় চ্যাপ্টা হয়ে অফিসে যাবেন। পাশ দিয়ে শ করে চলে যাওয়া গাড়িটার দিকে নির্বিকার তাকিয়ে থাকবেন। তখন ভাববেন, চেষ্টা করলে হয়ত আমিও পারতাম !
আপনি যা চাবেন, তাই পাবেন (You will get what you want)। এই কথা বিশ্বাস করুন। এই কথার তাৎপর্য বুঝার চেষ্টা করুন। আপনার আকাঙ্খা, চেষ্টা আর ধৈর্য থাকলে আপনিও পারবেন আরেক সাজ্জাদ হতে, আরেক ফয়সাল হতে। তখন আপনার থেকেও আমরা গল্প শুনব !
শুক্রবার, ৪ মার্চ, ২০১৬
পারমাণবিক অস্ত্র প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন উত্তর কোরিয়া প্রেসিডেন্ট কিম জং-উন।
‘যেকোনো সময়’ ব্যবহারের জন্য পারমাণবিক অস্ত্র প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন উত্তর কোরিয়া প্রেসিডেন্ট কিম জং-উন।
দেশটির রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত সংবাদ মাধ্যম কেসিএনএ-এর বরাত দিয়ে বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, শুক্রবার এক সামরিক মহড়ায় কিম সেনাবাহিনীকে এই নির্দেশ দেন।
সম্প্রতি পারমাণবিক পরীক্ষা ও ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার জন্য জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার পর দেশটির নেতার কাছ থেকে সবশেষ এই বক্তব্য এল।
উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের কয়েক ঘণ্টার মাথায় গতকাল দেশটি সাগরে ছয়-ছয়টি স্বল্পপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে।
এর আগে চলতি বছরের ৬ জানুয়ারি তথাকথিত হাইড্রোজেন বোমার পরীক্ষা ও ৭ ফেব্রুয়ারি রকেট উৎক্ষেপণের পর বুধবার উত্তর কোরিয়ার উপর নতুন করে অবরোধ আরোপের ঘোষণা দেয় জাতিসংঘ।
বুধবার নিরাপত্তা পরিষদের ভোটাভুটিতে উত্তর কোরিয়ার মিত্র চীনসহ সবগুলো সদস্য রাষ্ট্রই যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত নিষেধাজ্ঞার পক্ষে সায় দেয়।
উত্তর কোরিয়া যাতে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচির জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ সংগ্রহ করতে না পারে, সেই চেষ্টাতেই নতুন এ নিষেধাজ্ঞা।
কেসিএনএ-এর খবরে বলা হয়, নতুন নিষেধাজ্ঞার পর কিম সেনাবাহিনীর ‘সমর কৌশল’ পরিবর্তন করে প্রয়োজনে ‘আগে আক্রমণে যাওয়ার’ প্রস্তুতি রাখতে বললেন।
রবিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬
মোবাইলের চার্জ এবার লেবু দিয়েই হবে !!
হঠাৎই শেষ হয়ে যায় মোবাইলের চার্জ। আর তাই অনেকেই সাথে রাখছে পাওয়ার ব্যাঙ্ক। তবে রাস্তা ঘাটে এবার মোবাইল চার্জ দিতে আর পাওয়ার ব্যাঙ্ক নয়, সঙ্গে রাখুন লেবু! শুনতে অবাক লাগছে! হ্যাঁ, এটাই সত্যি। এখন থেকে লেবু দিয়েই চার্জ করতে পারবেন আপনার মোবাইল। কিন্তু কিভাবে? আসুন জেনে নেয়া যাক।
প্রথমে একটি পুরাতন ইউএসবি চার্জার ক্যাবল নিয়ে নেন। ‘ইউএসবি এ’ প্লাগ অর্থাৎ যে পাশটি আপনি সুইচে লাগান সেই অংশ কেটে নিন। কাটার পর সেখানে চারটি তার দেখতে পাবেন। সেখান থেকে দুইটি তার অর্থাৎ সাদা ও সবুজ রংয়ের তারগুলো কেটে ফেলুন। এরপর কালো ও লাল রংয়ের তার রেখে দিন এবং সেই তার দুটি কারেন্ট পরিবহনের কাজে লাগানো হবে।
এবার কয়েকটি তামার মুদ্রা এবং দস্তা দিয়ে লেপা পিন নিয়ে নিন যা ইলেক্ট্রোড হিসেবে কাজ করবে এবং লেবুর রস ইলেক্ট্রোলাইট হিসেবে কাজ করবে। কিছু তার ও পেপারক্লিপ নিয়ে এদেরকে লেবুটির আগ পিছ করে লাগিয়ে নিতে হবে। সেই ক্লিপগুলোকে তারের সাহায্যে একটি লেবুর সাথে আরেকটি লেবুকে সংযুক্ত করতে হবে। সর্বশেষ সংযুক্ত তারদুটি মোবাইলের চার্জার পয়েন্টের সাথে যুক্ত করে লাগিয়ে দিতে হবে। তখনি দেখতে পাবেন আপনার মোবাইলটি চার্জ হওয়া শুরু করছে।
উল্লেখ্য, একটি লেবু ০.৯৫ ভোল্ট জেনারেট বা সাপ্লাই করে। তাহলে যদি ৬টি লেবুকে একত্রে সংযুক্ত করা হয় তখান তা ৫.৭ ভোল্ট সাপ্লাই করবে। মোবাইল চার্জ করতে ৫ ভোল্ট কারেন্টের প্রয়োজন হয়, তাহলে ৬টি লেবু চার্জ দেয়ার জন্য যথেষ্ট। এবার সেই ছয়টি লেবুর সাথে ইউএসবি এর সেই ক্যাবল সংযুক্ত করুন। এরপর আপনার মোবাইল চার্জে দিন। এবার আপনি নিজে এই যাদু দেখতে পারবেন।
শুক্রবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬
পরকালের সত্যতা পেয়ে গেলো বিজ্ঞানীরা,
পৃথিবীর মানুষ প্রতিদিন যে কাজকর্ম করে,তার একটা প্রতিক্রিয়া বিপরীত জগতে সৃষ্টি হওয়া বিপরীত সত্তার উপর সরাসরি প্রভাব পড়ে। পদার্থ বিজ্ঞানের রীতি অনুযায়ী এটি একটি চিরসত্য বিধান। কণিকা জগৎ বিষয়টি প্রমাণ করে দেখিয়ে দিয়েছে।
আধুনিক বিজ্ঞান দাবী করছে বস্তুজগতের পাশাপাশি সমান্তরালে বিপরীত জগৎ সৃষ্টি হয়ে আছে। আর সেই জগতে এ পৃথিবীতে যতো প্রকার সত্তা আছে,তার প্রতিটিরই বিপরীত সত্তা সৃষ্টি হয়ে বিদ্যমান আছে।অর্থাৎ আমাদের মানব সমাজের প্রত্যেকেরই একটি করে বিপরীত সত্তা তৈরী হয়ে আছে যাকে বলে identical twin.আগামীতে যতো মানুষ আসবে পৃথিবীতে,ঠিক ততোজনেরই বিপরীত সত্তা ঐ বিপরীত জগতে তৈরী হবে।
পৃথিবীর মানুষ প্রতিদিন যে কাজকর্ম করে,তার একটা প্রতিক্রিয়া বিপরীত জগতে সৃষ্টি হওয়া বিপরীত সত্তার উপর সরাসরি প্রভাব পড়ে। পদার্থ বিজ্ঞানের রীতি অনুযায়ী এটি একটি চিরসত্য বিধান। কণিকা জগৎ বিষয়টি প্রমাণ করে দেখিয়ে দিয়েছে। সুতরাং বস্তুজগৎ ও প্রতিজগৎ অবশ্যই বিদ্যমান আছে। কোরআনে বলা হয়েছেঃ
“তিনি যথাযথভাবে (প্রতিটি বিষয়ে পরিমাপ ও পরিমাণের অনুপাত ঠিক করে) সমগ্র মহাবিশ্ব (বস্তুজগৎ ও প্রতিবস্তুজগৎ এ দু’ভাগে বিভক্ত করে) সৃষ্টি করেছেন।” (সূরা আয্ যুমার : ৫)
কোরআনে আরো বলা হয়েছেঃ
“আমি সৃষ্টি করেছি তোমাদেরকে জোড়ায় জোড়ায়(পৃথিবীর মানুষ এবং একই চেহারার পরকালের জন্য প্রতিবস্তু দিয়ে সৃষ্ট বিপরীত মানুষ )।”(সূরা আন্ নাবা : ৮ )
ইতিমধ্যেই বিজ্ঞান প্রমাণ করে দেখিয়েছে বিজড়িত আলোর কণার জোড় থেকে ১ টি ফোটন কণিকা আলাদা করে যদি দূরে কোথাও নিয়ে যাওয়া হয় এবং তাকে বিভিন্ন অবস্থায় নাড়া-চাড়া করা হয়,তাহলে অপর ফোটন কণিকাটিও একইভাবে নড়ে-চটে ওঠে। যদিও তাদের মধ্যে অনেক দূরত্ব বজায় থাকে।এতে প্রমাণিত হলো পৃথিবীর মানুষ যে ধরনেরই আমল করুক না কেন,সাথে সাথে তা বিপরীত জগতে সৃষ্ট তাঁরই বিপরীত সত্ত্বার উপর হুবহু প্রতিফলিত হবে।এতে কোনো প্রকার ব্যতিক্রম ঘটবেনা।কারণ মানুষসহ প্রত্যেকটি জিনিসই এ মহাবিশ্বে আলোর কণা ফোটন দিয়েই সৃষ্টি হয়েছে মৌলিকভাবে।এ তথ্যও প্রমাণিত সত্য।
তাই এ কারণে এবং আরো অন্যান্য কারণেও বিজ্ঞানীগণ ধারণা করছেন নিশ্চয় আবিষ্কৃত অদৃশ্য বস্তু ও শক্তি আমাদের বস্তুজগতে (দৃশ্যমান বস্তুর জগতে) এতো প্রভাবশালী হতে পারলে অবশ্যই তাদের প্রভাব প্রতিপত্তিকে কাজে লাগিয়ে তারা আমদের জগতের সমান্তরালে দৃশ্যমান বস্তুর বিপরীতে অদৃশ্য বস্তু ও শক্তি দিয়ে প্রতিবস্তুর জগৎ সৃষ্টি করে থাকবে।অদৃশ্য বস্তু ও শক্তির প্রভাব বিদ্যমান থাকায় আমরা সেই প্রতিজগতকে কখনো দেখতে পাবো না।
এ বিষয়ে আল্লাহ্ পবিত্র কুরানে সূরা ‘নামল’-র ৬৫ নং আয়াতে উল্লেখ করেছেন এভাবে-
“বল আল্লাহ্ ব্যতীত আর কেউ মহাবিশ্বে অদৃশ্য বিষয়সমূহের পূর্ণ জ্ঞান রাখে না।”
প্রতিজগৎ বা পরজগৎ সম্পর্কে কুরান সূরা মুমিনের ৩৯ নং আয়াতে মানব জাতিকে অবহিত করেছে এভাবে-
“(মুমিন ব্যক্তিটি বললো) হে আমার সম্প্রদায়! বস্তুজগৎ (ইহজগৎ) তো হচ্ছে অস্থায়ী উপভোগের বস্তু আর পরকালই (প্রতিজগৎ) হচ্ছে স্থায়ী উপভোগের আবাস।”
সুতরাং এই বস্তুজগতে যারা আল্লাহ্র কথামতো জীবন চালাবে,তারা সফলতা লাভ করবে,আর তার বিনিময়ে চিরশান্তির জান্নাত পাবে।
ফেসবুক ও টুইটারের দুই প্রধানকে আইএস এর হুমকি
দিয়ে ভিডিও প্রকাশ করেছে ইরাক ও সিরিয়াভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস)। সামাজিক যোগাযোগের জনপ্রিয় মাধ্যম দুটিতে জঙ্গিবাদ-সংশ্লিষ্ট তথ্যের আদান-প্রদান বন্ধ করে দেওয়ার উদ্যোগে ক্ষুব্ধ হয়ে এমন হুমকি দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। খবর দ্য গার্ডিয়ানের।
টুইটার কর্তৃপক্ষ বলেছে, সামাজিক যোগাযোগের এই মাধ্যমটিতে সন্ত্রাসীদের পোস্ট করা তথ্য ও ছবিসংবলিত উপকরণ জব্দের চেষ্টা গ্রহণের পর থেকে আইএসের হুমকি পাওয়াটা একটা নৈমিত্তিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে।
আইএসের প্রকাশিত ২৫ মিনিটের ওই ভিডিওতে ফেসবুকের সিইও মার্ক জাকারবার্গ ও টুইটারের সিইও জ্যাক ডরসের পাশাপাশি দুটি ছবি দেখা যায়। এই ছবিতে বন্দুকের গুলির চিহ্ন রয়েছে।
আইএসের সাম্প্রতিকতম ভিডিওতে বার্তা দেওয়া হয়েছে, ‘যদি তোমরা আমাদের একটা অ্যাকাউন্ট বন্ধ করো, তবে আমরা দশটা খুলব এবং শিগগিরই তোমাদের শেষ করার পর নাম মুছে ফেলব। আমরা যা বলি তা যে সত্যি, সেটা তোমরা দেখতে পারবে।’
ভিডিওতে দাবি করা হয়, ফেসবুকের ১০ হাজারের বেশি অ্যাকাউন্ট তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আরও রয়েছে দেড় শ ফেসবুক গ্রুপ ও পাঁচ হাজার টুইটার প্রোফাইল।
টুইটারের একজন মুখপাত্র বলেন, এ রকম হুমকি নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হওয়ায় এই ভিডিওর কোনো সাড়া দেবেন না তাঁরা। তবে এমন কতগুলো হুমকি প্রতিষ্ঠানটি পেয়েছে সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে অস্বীকৃতি জানান তিনি।
এই হুমকির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকো পুলিশ বিভাগের কর্মকর্তা উইলসন এনজি বলেন, টুইটার সদর দপ্তরের বিরুদ্ধে কোনো ‘বিশ্বাসযোগ্য হুমকির’ ব্যাপারে তাঁর জানা নেই।
প্রসঙ্গত, অনলাইনে জঙ্গি তৎপরতা মোকাবিলার উপায় নিয়ে গত জানুয়ারিতে হোয়াইট হাউসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে যাঁরা বৈঠক করেছিলেন, তাঁদের মধ্যে ফেসবুক ও টুইটারের প্রতিনিধিরাও ছিলেন। সূত্র-বিডি নিউজ ডেস্ক।
টুইটার কর্তৃপক্ষ বলেছে, সামাজিক যোগাযোগের এই মাধ্যমটিতে সন্ত্রাসীদের পোস্ট করা তথ্য ও ছবিসংবলিত উপকরণ জব্দের চেষ্টা গ্রহণের পর থেকে আইএসের হুমকি পাওয়াটা একটা নৈমিত্তিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে।
আইএসের প্রকাশিত ২৫ মিনিটের ওই ভিডিওতে ফেসবুকের সিইও মার্ক জাকারবার্গ ও টুইটারের সিইও জ্যাক ডরসের পাশাপাশি দুটি ছবি দেখা যায়। এই ছবিতে বন্দুকের গুলির চিহ্ন রয়েছে।
আইএসের সাম্প্রতিকতম ভিডিওতে বার্তা দেওয়া হয়েছে, ‘যদি তোমরা আমাদের একটা অ্যাকাউন্ট বন্ধ করো, তবে আমরা দশটা খুলব এবং শিগগিরই তোমাদের শেষ করার পর নাম মুছে ফেলব। আমরা যা বলি তা যে সত্যি, সেটা তোমরা দেখতে পারবে।’
ভিডিওতে দাবি করা হয়, ফেসবুকের ১০ হাজারের বেশি অ্যাকাউন্ট তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আরও রয়েছে দেড় শ ফেসবুক গ্রুপ ও পাঁচ হাজার টুইটার প্রোফাইল।
টুইটারের একজন মুখপাত্র বলেন, এ রকম হুমকি নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হওয়ায় এই ভিডিওর কোনো সাড়া দেবেন না তাঁরা। তবে এমন কতগুলো হুমকি প্রতিষ্ঠানটি পেয়েছে সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে অস্বীকৃতি জানান তিনি।
এই হুমকির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকো পুলিশ বিভাগের কর্মকর্তা উইলসন এনজি বলেন, টুইটার সদর দপ্তরের বিরুদ্ধে কোনো ‘বিশ্বাসযোগ্য হুমকির’ ব্যাপারে তাঁর জানা নেই।
প্রসঙ্গত, অনলাইনে জঙ্গি তৎপরতা মোকাবিলার উপায় নিয়ে গত জানুয়ারিতে হোয়াইট হাউসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে যাঁরা বৈঠক করেছিলেন, তাঁদের মধ্যে ফেসবুক ও টুইটারের প্রতিনিধিরাও ছিলেন। সূত্র-বিডি নিউজ ডেস্ক।
শুক্রবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬
Miami Police Union Votes for Boycott of Beyoncé Concert
*The drama over Beyoncé’s performance during the Super Bowl 50 halftime show continues to occupy news space as a police union in Miami voted in favor of calling on all police offices to boycott the singer’s April 26 concert in the city.
The Huffington Post reports the boycott is motivated by claims of Beyoncé’s promoting an anti-police message in her latest music video for the song “Formation” as well as her performance of the new tune at the Super Bowl halftime show.
In a press release he wrote, Javier Ortiz, president of Miami Fraternal Order of Police, Lodge #20, stated that he didn’t watch Beyoncé’s halftime performance “out of respect for our profession.” The performance , which paid tribute to the 50th anniversary of the Black Panther Party, has come under fire from critics who viewed it as anti-police.
“The Miami Fraternal Order of Police has voted to have all law enforcement officers boycott Beyoncé’s concert which is being held at the Miami Marlins Stadium on Wednesday, April 26, 2016,” Ortiz said in a statement. “The fact that Beyoncé used this year’s Super Bowl to divide Americans by promoting the Black Panthers and her antipolice message shows how she does not support law enforcement.” The organization urged other law enforcement agencies around the country to do the same.
Ortiz goes on to mention that he had “mistakenly” seen the “Formation” video, which features an African-American boy dancing in front of police in riot gear as well as Beyoncé sitting on top of a sinking New Orleans police car and graffiti that reads “Stop shooting us.”
Commenting on its boycott, Ortiz voiced in an email to the Post that the union was urging officers not to work the concert. Along with the email, Ortiz sent HuffPost a meme featuring Beyoncé and her husband, Jay Z.in an effort to highlight that the entertainer was being hypocritical in light of the fact that she has received a police detail in the past.
Despite the union’s boycott, Miami Police Department spokesman Maj. Delrish Moss countered Ortiz and the Fraternal Order of Police, saying that they did not speak for the police department or the city of Miami. With that he emphasized that the venue where Beyoncé is scheduled to perform, Marlins Park, would be protected when she comes to town.
“Right now the union president has his First Amendment right to say whatever he wants to say, but that doesn’t always translate to reality. As far as we see, there’s no indication that anything that is said there will translate into police officers not working the job,” Moss said told the Post.
Despite a report from Fox 13 on Wednesday (Feb. 17) about no Tampa, Fla. police officers signing up to staff Beyoncé’s concert in that city, Tampa Police spokesman Steve Hegarty told HuffPost on Thursday (Feb. 18) that officers have signed up for the event, which he said would be fully staffed.
News of the MDPD’s boycott is the latest in a backlash that came after Beyoncé’s halftime performance. In addition to criticism from former New York City Mayor Rudy Giuliani, a Tennessee police sheriff said earlier this week that Beyoncé was responsible for the six gunshots he reportedly heard someone firing outside his house.
In addition, there was the planned protest on Wednesday against Beyoncé’s Super Bowl performance that fell flat with hardly anyone showing up for the cause.
Read more at http://www.eurweb.com/2016/02/miami-police-union-votes-boycott-beyonce-concert/#AUTvbKhQ5sKQeAVh.99
সোমবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬
ভারতকে ঘায়েল করতে এশিয়ায় ক্রমাগতভাবে শক্তি বাড়াচ্ছে চীন।
এশিয়ার শক্তিশালী দুই দেশ চীন ও ভারতের মধ্যেকার সম্পর্ক কোনো সময়ই ভালো নয়। তারা এক অপরকে হুমকি মনে করে। ভারতকে ঘায়েল করতে এশিয়ায় ক্রমাগতভাবে শক্তি বাড়াচ্ছে চীন। তাই এবার চীনকে চাপে রাখতে ভারত মহাসাগরে দেশের বৃহত্তম বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ পাঠাল দিল্লি।
মালদ্বীপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশটির রাজধানী মালেতে পাঠানো হয়েছে ‘আইএনএস-বিক্রমাদিত্য’ ও এর সঙ্গে পাঠানো হয়েছে ডেস্ট্রয়ার ‘আইএনএস-মাইসোর’ ও একটি ট্যাঙ্কার ‘আইএনএস-দীপক’। রোববার এ খবর দিয়েছে টাইমস অব ইন্ডিয়া।
খবরে বলা হয়, দক্ষিণ চীন সাগরের বেশ কয়েকটি এলাককা ‘দখল’-এর পর কিছু দিন ধরে ভারত মহাসাগরেও তার কর্তৃত্ব বাড়াতে মরিয়া বেইজিং। কয়েক মাস আগেই পাকিস্তানের গাওয়াদার ও শ্রীলঙ্কার হাম্বানটোটা বন্দরে পোঁছেছে চীনা যুদ্ধজাহাজ। ভারত মহাসাগর এলাকার দেশগুলোর ওপর তার কর্তৃত্ব বজায় রাখতেই এ পদক্ষেপ বলে মনে করছে ভারত।
তবে মালদ্বীপে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোকে আদতে ‘প্রজেক্ট মৌসুম’-এরই অঙ্গ বলে দাবি করেছেন ভারতীয় নৌবহিনীর এক পদস্থ কর্মকর্তা।
গত মাসেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিশেষ দূত হিসেবে মালদ্বীপে গিয়েছিলেন পররাষ্ট্র সচিব এস জয়শঙ্কর। তারপর মালদ্বীপের রাষ্ট্রপতি আবদুল্লাহ ইয়ামিন আবদুল গায়ুম গত সপ্তাহে জানান, বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় বিষয়ে ভারতের সঙ্গে আবার নতুন করে আলাপ-আলোচনা শুরু করবে মালদ্বীপ।
এ যুদ্ধজাহাজ ভেড়ানোকে দুদেশের মধ্যে নিরাপত্তা ও বাণিজ্য সম্পর্ক জোরদার করার উপলক্ষ হতে পারে।
রবিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬
সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে কুর্দিশ মিলিশিয়াদের লক্ষ্য করে দ্বিতীয় দিন শেল নিক্ষেপ করেছে তুরস্কের সেনাবাহিনী।
১৪ ফেব্রুয়ারী- একদিকে বিশ্ব ভালবাসা দিবস অপরদিকে আজ রিয়ার উত্তরাঞ্চলে কুর্দিশ মিলিশিয়াদের লক্ষ্য করে দ্বিতীয় দিন শেল নিক্ষেপ করেছে তুরস্কের সেনাবাহিনী। রোববারের ওই হামলায় কুর্দিশ মিলিশিয়ার দুই যোদ্ধা নিহত হয়েছে। দেশটিতে যুক্তরাজ্য ভিত্তিক পর্যবেক্ষণ সংস্থা সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউমেন রাইটস এ তথ্য জানিয়েছে। সিরিয়ার কুর্দিশদের ওই এলাকা থেকে বিতাড়িত করার দাবি জানিয়েছে তুরস্ক। সাম্প্রতিক সময়ে তারা সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় শহর আলেপ্পোসহ মেনাঘ বিমানঘাঁটি থেকে জঙ্গিদের হটিয়েছে। ২০১১ সালে সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে সংঘাত শুরু হওয়ার পর কুর্দিশ মিলিশিয়ারা তুরস্ককে সতর্ক করেছিল। কুর্দিশ ওয়ার্কার্স পার্টি ক্রমেই ওই অঞ্চলে বিস্তার লাভ করছিল। তারা দক্ষিণ-পূর্ব তুরস্ক শাসনের বিরুদ্ধে তিন দশক ধরে বিদ্রোহ চালিয়ে আসছে। এদিকে কুর্দিদের ওপর তুরস্কের শেল নিক্ষেপ বন্ধ করতে বলেছে যুক্তরাষ্ট্র। তুরস্ককে কুর্দিদের ওপর থেকে নজর সরিয়ে ইসলামিক স্টেটের ওপর নজর দেবার পরামর্শ দিয়েছে তারা। শনিবার তুরস্কের সেনাবাহিনী সিরিয়ায় কুর্দিদের দখল করা মেনাঘ বিমানঘাটি লক্ষ্য করে শেল নিক্ষেপ করে। তুরস্ক মনে করে, তার দেশের কুর্দিরা সিরিয়ার কুর্দিদের সঙ্গে এক জোট হয়ে তুরস্কের ভিতর সন্ত্রাস চালাচ্ছে। এজন্য সিরিয়ার কুর্দিদের ওপর তুরস্কের এই ক্ষোভ হামলায় পরিণত হয়েছে। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, তুরস্ক সৌদি আরবের সঙ্গে স্থল অভিযানে যেতে প্রস্তুত রয়েছে। গত বৃহস্পতিবার সিরিয়ার বিদ্রোহী দলগুলো বিশ্বের শক্তিধর দেশগুলোর নিকট যুদ্ধবিরতিতে যাবার বিষয়ে সম্মতি জানিয়েছে। আগামী সপ্তাহ থেকে এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে। মশা নিধনে ব্রাজিলে দুই লক্ষ বিশ হাজার মোতায়েন ।
জিকা ভাইরাস মোকাবেলায় ব্রাজিলে সেনা মোতায়েন করা হচ্ছে। বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে। দেশটির সরকার দুই লাখ বিশ হাজার সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
জানা গেছে, সেনা বাহিনীর সদস্যরা জিকা সংক্রান্ত সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করবে। এছাড়া এই ভাইরাসে আক্রান্তদের মাঝে মনোবল বৃদ্ধির লক্ষ্যেও কাজ করবে তারা। তবে কারো কারো কাছে মশা নিধনের জন্য সেনা মোতায়েনের বিষয়টা হাস্যকর হয়ে উঠেছে।
এদিকে মশাবাহিত জিকা ভাইরাসে সব থেকে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে ব্রাজিল। এ দেশটিতেই এই ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী চিহ্ণিত করা হয়।
বিশ্ব সাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, গর্ভবর্তী নারীরা এ রোগে আক্রান্ত হলে মাইক্রোসেফালিসহ শিশুর জন্মগত ত্রুটি দেখা দিতে পারে। শিশুর মাথা অস্বাভাবিকভাবে ছোট হয় এবং মস্তিষ্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

