বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৫

অনলাইনে চলছে রমরমা দেহ ব্যবসা ।

অনলাইনে চলছে রমরমা দেহ ব্যবসা ।

সেই আদিকাল থেকেই চলে আসছে দেহ বিলিয়ে দেয়ার ব্যবসা বা দেহব্যবসা। এ ব্যবসা যেমন থেমে নেই তেমনি এবার যুগের সাথে তাল মিলিয়ে অনলাইনে যোগাযোগের মাধ্যমে চলছে অভিনব কায়দায় দালালদের মধ্যস্ততায় রমরমিয়ে নারীদেহ নিয়ে খেলা করা ব্যবসা। দেশের প্রথম সারির একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই দেহব্যবসার নানা তথ্য।
দেহব্যবসা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বৈধতা থাকলেও আমাদের দেশে এই ব্যবসার কোন বৈধতা নেই। দেশে দেহব্যবসার আইন স্বীকৃত না থাকলেও দেধারছে চলছে এই ব্যবসা, বিশেষ করে রাজধানী ঢাকায় অনলাইনে দালালদের মাধ্যমে যোগাযোগ করে বিভিন্ন ফ্ল্যাট বাড়িতে এই অবৈধ ব্যবসা চলছে বেশ রমরমিয়ে।
প্রতিবেদটিতে ওঠে এসেছে রাজধানীর গুলশান, বনানী ছাড়াও মহাখালী, ডিওএইচএস, লালমাটিয়া, ইস্কাটনরোড, সেন্ট্রালরোড, মোহাম্মদপুর, রামপুরা, শান্তিনগর, উত্তরাসহ আরো কয়েকটি এলাকায় ফ্ল্যাট বাড়িতে জমজমাট দেহব্যবসার কথা। যেখানে উচ্চ দামে যৌনকর্মীদের পুরো রাত অথবা ঘন্টা হিসেবে দালালদের মধ্যস্ততায় খরিদ করে দেহভোগ করে থাকে এক শ্রেণির মানুষ।
দুই থেকে তিনজন যৌনকর্মীর সাথে কথা বলে তাদের এ পথে আসার গল্প জানা গেছে প্রতিবেদনটিতে। তারা জানিয়েছে এ পথে জড়িয়ে যাওয়ার বিভিন্ন কষ্টের কথাও। জানা গেছে, এ পথের দালালদের অনেকটা হদিসও। এছাড়াও কত মানুষ প্রতি রাতে এই দেহব্যবসায়ীদের সাথে অবৈধ কর্মে লিপ্ত হচ্ছে এবং কত দেহব্যবসায়ী তাদের দেহ উজাড় করে দিচ্ছে তাহাও উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়াও প্রতিবেদনটিতে কত বছর বয়সীরা এ ব্যবসার সাথে জড়িয়ে পড়ছে সেটাও উল্লেখ করা হয়েছে। এবং এখানে এই দালাল চক্রের গডফাদারের দর্শনও দেখানো হয়েছে। এবং এই দেহব্যবসায়ীদের নিয়ে সমাজের উচ্চ শ্রেণিরাও ফূর্তি করছে বলে উল্লেখ রয়েছে । 

জানা অজানা কাহিনী

জানা অজানা কাহিনী

আমরা আমাদের চতুর্দিকে যে অসীম বিস্তৃতি অবলোকন করি অথবা বিজ্ঞানীগণ শক্তিশালী দূরবিক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে ঊর্ধ্বাকাশে যতদূর পর্যন্ত দৃষ্টিপাত করতে সক্ষম, সেই দূরত্বটুকুই কি সাত-আসমানের সীমানা, নাকি এর পরেও দৃষ্টিসীমার অন্তরালে আল্লাহতায়ালা আরও ছয়টি আসমানকে সাজিয়ে রেখেছেন ? – এই প্রশ্নটি নিয়ে তর্ক-বিতর্কের শেষ নেই এবং এর সঠিক জবাব বিজ্ঞান এখনও পর্যন্ত দিতে পারেনি। তবে আল-কোরআনে এ বিষয়ে বেশ কিছু ইংগিত রয়েছে। বৈজ্ঞানিক ইংগিতবহ ঐশী-দিকনির্দেশনার আলোকে গবেষণাকর্ম চালিয়ে গেলে সত্যান্বেষী বিজ্ঞানীগণ অচিরেই এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর খুঁজে পাবেন। এর ফলে সকল দ্বিধাদন্দের ঊর্ধ্বে উঠে মানুষ সত্যকে আরও নিবিড়ভাবে জানতে ও বুঝতে পারবে। যদিও আমার জ্ঞান অত্যন্ত সীমিত, তথাপি এ অবধি অর্জিত যৎসামান্য জ্ঞানের আলোকে আমি এ বিষয়ে কিছু বক্তব্য পেশ করতে চেয়েছি। আসল জ্ঞান তো সর্ববিষয়ে সর্বজ্ঞ মহান আল্লাহতায়ালার নিকটে।
মহান আল্লাহতায়ালা ‘সপ্ত-আকাশমন্ডলীকে’ আল-কোরআনে সৃষ্টি বিষয়ক আয়াতসমূহে স্পষ্টভাবে ‘ছাব`আ ছামাওয়াতি’হিসেবেই উল্লেখ করেছেন-
আল-কোরআন-
সূরা হা-মীম-আস সীজদা-আয়াত নং-১২
(৪১ : ১২) ফাক্বাদ্বা- হুন্না ছাব’আ ছামা-ওয়া-তিন ফী ইয়াওমাইনি ওয়া আওহা-ফী কুল্লি ছামা -য়িন আমারাহা; ওয়া যাইয়্যিনিছ ছামা – আদ দুনইয়া- বিমাছা- বীহা ওয়া হিফজা; জা- লিকা তাক্বদীরুল আযীযিল ‘আলীম।
(৪১ : ১২) অর্থ:- অতঃপর তিনি আকাশমন্ডলীকে দুই দিনে সপ্তাকাশে পরিণত করলেন এবং প্রত্যেক আকাশে তাঁর বিধান ব্যক্ত করলেন; এবং আমরা (আল্লাহ- সম্মান সূচক) দুনিয়ার অর্থাৎ পৃথিবীর (নিকটবর্তী) আকাশকে সজ্জিত করলাম প্রদীপমালা দ্বারা এবং করলাম সুরক্ষিত, এটা পরাক্রমশালী সর্বজ্ঞ আল্লাহর ব্যবস্থাপনা।
সূরা মুমিনূন-আয়াত নং-১৭
(২৩ : ১৭) অ লাক্বাদ খালাক্বনা-ফাওক্বাকুম ছাব’আ ত্বারা -য়িক্বা অমা-কুন্না-‘আনিল খালাক্বি গ্বা-ফিলীন।
[ তারা’য়িকুন =(অর্থ)- পথ, দল, পদ্ধতি -‘কোরআনের অভিধান’-মুনির উদ্দীন আহমদ -২৪০পৃষ্ঠা ] (২৩ : ১৭) অর্থ:- আমি তো তোমাদের ঊর্ধ্বে সৃষ্টি করেছি সাতটি পদ্ধতি (পথ) এবং আমি সৃষ্টি বিষয়ে অসতর্ক নই।
( নিকটবর্তী অর্থাৎ প্রথম আসমানে মূলত সৌরমন্ডলীয় পদ্ধতিতেই সবকিছু পরিচালিত হচ্ছে এবং অসীম বিস্তৃতি ঘটেছে।তেমনি বাকী আসমানগুলোতেও হয়ত ভিন্ন ভিন্ন এক একটি পদ্ধতি রয়েছে, যা আমরা এখনও জানতে পারিনি )
বিজ্ঞানের সহায়তায় আমরা জেনেছি যে, আমরা শুধুমাত্র একটি কালিক ও তিনটি স্থানিক মাত্রা দেখতে পাই এবং সেক্ষেত্রে স্থান-কাল যথেষ্ট মসৃন ( Fairly flat )। এটা প্রায় একটা কমলালেবুর বাইরের দিকটির মত। যা কাছ থেকে দেখলে সবটাই বঙ্কিম এবং কুঞ্চিত কিন্তু দূর থেকে দেখলে উঁচু নিচু দেখতে পাওয়া যায় না। মনে হয় মসৃণ। স্থান-কালের ব্যাপারটাও সেরকম -অত্যন্ত ক্ষুদ্রমাত্রায় দেখলে দশমাত্রিক এবং অত্যন্ত বঙ্কিম, কিন্তু বৃহত্তম মাত্রায় বক্রতা কিংবা অতিরিক্ত মাত্রা দেখতে পাওয়া যায় না। স্থানের তিনটি এবং কালের একটি মাত্রা ছাড়া অন্য মাত্রাগুলি বক্র হয়ে অত্যন্ত ক্ষুদ্র আয়তনের স্থানে রয়েছে। সেই স্থানের আয়তন প্রায় এক ইঞ্চির এক মিলিয়ন, মিলিয়ন, মিলিয়ন, মিলিয়ন, মিলিয়ন ভাগের এক ভাগ। এগুলো এতই ক্ষুদ্র যে আমাদের নজরেই আসে না। সুতরাং স্পষ্টতই মনে হয়, স্থান-কালের যে সমস্ত অঞ্চলে একটি কালিক ও তিনটি স্থানিক মাত্রা কুঞ্চিত হয়ে ক্ষুদ্র হয়ে যায়নি একমাত্র সেই সমস্ত অঞ্চলেই প্রাণ অর্থাৎ প্রাণ বলতে যা বুঝি সেই রকম প্রাণের অস্তিত্ব সম্ভব। তবে তন্তু-ত্বত্ত্বের অনুমোদন সাপেক্ষে মহাবিশ্বের অন্যান্য এরকম অঞ্চল কিংবা এমন একাধিক মহাবিশ্ব (তার অর্থ যাই হোক না কেন) থাকার যথেষ্টই সম্ভাবনা রয়েছে, যেখানে সমস্ত মাত্রাই কুঞ্চনের ফলে ক্ষুদ্র কিংবা যেখানে চারটি মাত্রাই প্রায় সমতল। কিন্তু সেই সমস্ত অঞ্চলে বিভিন্ন সংখ্যক কার্যকর মাত্রাগুলো পর্যবেক্ষণ করার মত বুদ্ধিমান জীব থাকবে না। দ্বিমাত্রিক জীবের কথা কল্পণা করা যাক, যদি সে এমন কিছু খায় যে তার পুরোটা হজম করতে না পারে, তবে খাদ্যের বাকী অংশটা সে যে মুখে আহার কেরেছে সেই মুখ দিয়ে বের করে দিতে হবে। অন্যদিকে যদি দেহের ভিতরে এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত পথ থাকে তাহলে জন্তুটি দুই ভাগে ভাগ হয়ে যাবে। তিনটির বেশি স্থানিক মাত্রা হলেও সমস্যা দেখা দেবে। এক্ষেত্রে দুটি বস্তুর মধ্যকার দূরত্বের বৃদ্ধির সঙ্গে মহাকর্ষীয় বলের হ্রাসপ্রাপ্তি সাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি হবে। ফলে পৃথিবী ও অন্যান্য গ্রহের সূর্যকে প্রদক্ষিণ করার স্থিরত্ব হ্রাস পাবে এবং তারা হয় সর্পিল গতিতে সূর্য থেকে দূরে সরে যাবে, নয়তো সূর্যের ভিতরে গিয়ে পরবে। ( বিস্তারিত জানার জন্য ‘কালের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস’ স্টিফেন ডব্লু হকিং-১০ অধ্যায় দেখে নিতে পারেন। )

আল-কোরআন-
সূরা যারিয়া-অয়াত নং-৪৭
(৫১ : ৪৭) আছ্ছামা আ বানাইনা-হা-বিআইদিওঁ ওয়া ইন্না -লামূছিউ-ন।
(৫১ : ৪৭) অর্থ:- আমি আকাশ নির্মাণ করেছি ক্ষমতা বা শক্তিবলে এবং আমি অবশ্যই মহাসম্প্রসারণকারী।
(৫১:৪৭) নং আয়াতে “আছ্ছামা-আ” অর্থাৎ ‘আকাশ’ নির্মাণের সাথে শক্তি বা ক্ষমতার বিষয়টি উল্লেখ থাকায় এমন ‘একক আকাশের’ প্রতি ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে আকাশে সৃষ্টির আদি পর্যায়ে বলবাহী মৌল-কণিকাগুলো ঘনিভূত শক্তিরূপে একটি নির্দিষ্ট গন্ডির মধ্যে বিরাজমান ছিল। অতঃপর সর্বশক্তিমান আল্লাহতায়ালার ইচ্ছায় একদা এর মহাসম্প্রসারন শুরু হয়।
“আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি” প্রবন্ধের -‘সৃষ্টিকালীন ১ম – ইওম বা দিন’- পড়ে নিলে বুঝতে সুবিধা হবে

সূরা আম্বিয়া-আয়াত নং-৩০
(২১ : ৩০) আ অ লাম ইয়ারাল লাজীনা কাফারূ -আন্নাছ ছামা- ওয়াতি অল আরদ্বা কা- নাতা- রাতাক্বান ফাফাতাক্বনা হুমা;অ জ্বায়ালনা মিনাল মা -য়ি কুল্লা শাইয়িন হাইয়্যিন; আফালা – ইউমিনূন।
(২১ : ৩০) অর্থ:- যারা কুফরী করে তারা কি ভেবে দেখে না যে, আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী মিশে ছিল ওতপ্রোতভাবে; অতঃপর আমি উভয়কে পৃথক করে দিলাম এবং প্রাণবান সমস্ত কিছু পরিগঠন করলাম পানি হতে; তবুও কি ওরা বিশ্বাস করবে না ?
(২১:৩০) নং আয়াতে ‘আন্নাছ্ ছামা-ওয়াতি’ বলতে সৃষ্টিকালীন প্রাথমিক পর্যায়ের এমন ‘এক আকাশমন্ডলীর’ কথা বোঝান হয়েছে যখন সপ্ত-আকাশের মধ্যকার সকল স্তর ও মহা-স্তরগুলো এবং পৃথিবীও একত্রিত অবস্থায় বিরাজ করছিল।
সূরা-হা-মীম-আস-সিজদা-আয়াত নং-১১
(৪১ : ১১) ছুম্মাছতাওয়া -ইলাছ্ছামা -য়ি ওয়া হিয়া দুখা নুন ফাক্বা-লা লাহা – ওয়ালিল আরদ্বিতিয়া তাওআন আও কারহা; কা- লাতা- আতাইনা- ত্বা -য়িঈন।
{দুখানুন =(অর্থ)- ধুঁয়া -‘কোরআনের অভিধান’-মুনির উদ্দীন আহমদ -১৮৬ পৃষ্ঠা }
(৪১ : ১১) অর্থ:- অতঃপর তিনি আকাশের দিকে মনোনিবেশ করেন যা ছিল ধুম্রপুঞ্জ বিশেষ। অতঃপর তিনি তাকে (আকাশকে) ও পৃথিবীকে বললেন, “তোমরা উভয়ে আস ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায়।” তারা বলল, ‘আমরা এলাম অনুগত হয়ে।’

(৪১:১১) নং আয়াতে ‘ইন্নাছ্ছামা-য়ি’ শব্দটির সাথে ‘দুখানুন’ অর্থাৎ ‘ধুম্রপুঞ্জের’ বিষয়ে উল্লেখ থাকায় এমন এক আকাশকে বোঝান হয়েছে ‘যা’ ডাইমেনশন বা মাত্রাগত ছকে নানা স্তর ও মহাস্তরে সাজান সপ্ত-আকাশ সৃষ্টির পূর্ববর্তী অবস্থা। এই অবস্থায় ‘আকাশ’, ধুম্রপুঞ্জ দ্বারা অর্থাৎ পৃথিবী সৃষ্টির পরও বিদ্যমান ভরবাহী মৌল-কণিকা ও পৃথিবী থেকে বিকর্ষীত স্বয়ংসম্পূর্ণ মৌলিক পদার্থ কণিকা বা পরমাণুসমূহ দ্বারা ভরপুর ছিল। অতঃপর আল্লাহতায়ালার আদেশে একদিকে যেমন পৃথিবীর স্তরগুলো সৃষ্টি করা হয়, অপরদিকে তেমনি আকাশকে পৃথিবী থেকে পৃথক করে দিয়ে সপ্তাকাশে পরিণত করা হয়।
“আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি” প্রবন্ধের -‘সৃষ্টিকালীন ৫ম – ইওম বা দিন’- পড়ে নিলে বুঝতে সুবিধা হবে।

সূরা সাফ্ফাত-আয়াত নং-৬
(৩৭ : ০৬) ইন্না- যাইয়্যানাছ- ছামা -আদদুনইয়া-বিযীনাতিনিল কাওয়া-কিব।
(৩৭ : ০৬) অর্থ:- আমরা (আল্লাহ-সম্মান সূচক) দুনিয়া বা পৃথিবীর ( নিকটবর্তী ) আকাশকে গ্রহাদির অলংকারে সজ্জিত করেছি।
সূরা মূল্ক-আয়াত নং-৫
(৬৭ : ০৫) অ লাক্বাদ যাইয়্যান্নাছ ছামা – আদদুনইয়া – বিমাছা -বীহা ওয়া জ্বায়ালনা – হা – রুজুমাল লিশ শাইয়া – ত্বীনি ওয়া আতাদনা – লাহুম আজা- বাছ্ছাঈর।
(৬৭ : ০৫) অর্থ:- আমি দুনিয়া বা পৃথিবীর (নিকটবর্তী) আকাশকে সুশোভিত করলাম প্রদীপমালা ( নক্ষত্রপুঞ্জ বা গ্যালাক্সি ) দ্বারা এবং ওদের করেছি শয়তানের প্রতি নিক্ষেপের উপকরণ এবং ওদের জন্য প্রস্তুত রেখেছি জ্বলন্ত অগ্নির শাস্তি।
সূরা হিযর- সূরা-আয়াত নং-১৬
(১৫ : ১৬) অ লাক্বাদ জ্বাআলনা- ফিছ্ছামা -য়ি বুরূজ্বাউঁ আমাইয়্যান্না-হা-লিন্না-জিরীন।
{বুরুজুন=(অর্থ)-তারকার ঘর- ‘কোরআনের অভিধান’ -৯৬পৃষ্ঠা — মুনির উদ্দীন আহমদ }
(‘বুরুজুনের’ বহুবচন হল ‘বুরুজ’। সাধারনত ‘ঘর’ বলতে যেমন দেয়াল ঘেরা এমন একটি স্থানকে বোঝায় যেখানে কয়েকজন মানুষ একত্রে বসবাস করতে পারে। তেমনি ‘বুরুজুন’ অর্থ ‘তারকার ঘর’ বলতে মহাকাশে সৃষ্ট এমন একটি স্থানকে বুঝানো হয়েছে যেখানে অনেকগুলো তারকা বা নক্ষত্র একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে একত্রিত অবস্থায় থাকে। সুতরাং‘বুরুজুনের’ অর্থ ‘মহাকাশের অসংখ্য নক্ষত্র সমৃদ্ধ স্তর অর্থাৎ গ্যালাক্সি’ হওয়াই স্বাভাবিক। আবার বুরুজ শব্দটি যেহেতু বহুবচন, সুতরাং এর দ্বারা ‘মহাকাশের অসংখ্য গ্যালাক্সি সমৃদ্ধ স্তর অর্থাৎ গ্যালাক্সিগুচ্ছ’ হওয়াই যুক্তিসংগত।)
(১৫ : ১৬) অর্থ:- আকাশে (প্রথম) আমি ‘বুরুজ’ অর্থাৎ ‘তারকার ঘরসমূহ বা গ্যালাক্সিসমূহ’ স্থাপন বা পরিগঠন করেছি এবং তাকে করেছি সুশোভিত দর্শকদের জন্য।
সূরা ফুরকান-আয়াত নং-৬১
(২৫ : ৬১) তাবা- রাকাল্লাজী জ্বাআলা ফিছ্ছামা -য়ি বুরুজাউঁ অ জ্বাআলা ফীহা- ছিরা- জ্বাউঁ অ ক্বামারাম মুনীরা।
(২৫ : ৬১) অর্থ:- কত মহান তিনি যিনি (প্রথম) আকাশে স্থাপন বা পরিগঠন করেছেন ‘বুরুজ’ অর্থাৎ ‘তারকার ঘরসমূহ বা গ্যালাক্সিসমূহ’ এবং তাতে স্থাপন বা পরিগঠন করেছেন প্রদীপ (সূর্য) ও জ্যোতির্ময় চন্দ্র।
সূরা রাহমান-আয়াত নং- ৭ ও ৮
(৫৫ : ০৭) আছ্ছামা -আ রাফা‘আহা- ওয়া ওয়াদ্বা‘আল মীযা- ন,
(৫৫ : ০৮) আল্লা- তাত্বগ্বাও ফিল মীযা- ন।
(৫৫ : ০৭) অর্থ:- তিনি আকাশকে করেছেন সমুন্নত এবং স্থাপন করেছেন মানদন্ডে (মাত্রা বা ডাইমেনশনে),
(৫৫ : ০৮) অর্থ- যেন তোমরা ভারসাম্য লংঘন না কর।

(৩৭:৬), (৬৭:৫), (৪১:১২) নং আয়াতে ‘ছামা- আদদুনইয়া’ এবং (১৫:১৬), (২৫:৬১) নং আয়াতে ‘ফিছ্ছামা-য়ি’ বলতে‘পৃথিবীর নিকটবর্তী আকাশ অর্থাৎ প্রথম আকাশকেই’ বোঝানো হয়েছে এবং যেখানে চন্দ্র,, সূর্য, গ্রহসমূহ, ‘মাছাবিহা’ অর্থাৎ প্রদীপমালা বা নক্ষত্রপুঞ্জ (গ্যালাক্সি) এবং ‘বুরুজ’ অর্থাৎ তারকার ঘর বা গ্যালাক্সিসমূহ পরিগঠন করে এক একটি স্তর ও মহাস্তরে সজ্জিত করা হয়েছে। সেই সাথে (৪১:১২) নং আয়াতের প্রথম অংশে ‘ছাবআ ছামাওয়াতি’ বলতে সেই সপ্ত-আকাশের কথা বোঝান হয়েছে যেগুলোকে (৫৫:৭) ও (৫৫:৮)নং আয়াতে উল্লেখিত ’মীযা- ন’ অর্থাৎ ডাইমেনশন বা মাত্রাগত মানদন্ডের ছকে বেঁধে দেয়ার কারণে সেই সাতটি আকাশের প্রত্যেকটির স্বাতন্ত্রতার ভারসাম্য কখনই লংঘিত হয় না।
আবার সপ্ত-আকাশমন্ডলীতে যে অসংখ্য স্তর সৃষ্টি করা হয়েছে, এই তথ্যটিও কয়েকটি আয়াতে স্পষ্টভাবে উল্লেখিত হয়েছে-
সূরা মূলক-আয়াত নং-৩
(৬৭ : ০৩) লাজী খালাক্বা ছাব‘আ ছামা- ওয়া- তিন ত্বিবা- ক্বা ;
(৬৭ : ০৩) অর্থ:- যিনি সপ্ত-আকাশমন্ডলীতে স্তর সমূহ সৃষ্টি করেছেন ;
সূরা নূহ্-আয়াত নং-১
(৭১ : ১৫) আলাম তারাও কাইফা খালাক্বাল্লা-হু ছাব‘আ ছামা-ওয়া-তিন ত্বিবা-ক্বাওঁ
(৭১ : ১৫) অর্থ:- তোমরা কি লক্ষ্য করনি আল্লাহ্ কিভাবে সপ্ত-আকাশমন্ডলীতে স্তর-সমূহ সৃষ্টি করেছেন ?

উপরের আয়াতগুলো থেকে সহজেই বুঝে নেয়া যায় যে, আল্লাহতায়ালা প্রথম আকাশ থেকে শুরু করে সপ্ত-আকাশের প্রত্যেকটিতেই অসংখ্য স্তর সৃষ্টি করেছেন। এক্ষেত্রে “ছাব‘আ ছামা-ওয়া-তি” অর্থাৎ সপ্ত-আকাশমন্ডলীকে কখনই অসংখ্য আকাশ হিসেবে ধরে নেয়া যায় না। উদাহরন স্বরূপ সহজ কথায় যদি বলি আমি সাতটি গ্লাস ও পেয়ালাটি বানিয়েছি। গ্লাসগুলি ও পেয়ালাটির মধ্যকার জিনিসগুলিও আমি বানিয়েছি। গ্লাসগুলি ও পেয়ালাটিতে যা যা আছে সবই আমার। এক্ষেত্রে পূর্বে প্রস্তুতকৃত যে সাতটি গ্লাস (নির্দিষ্টভাবে) এবং পেয়ালাটির কথা উল্লেখ করা হয়েছে তা কখনও অসংখ্য গ্লাস বা পেয়ালা হয়ে যাবে না। বরং প্রস্তুতকৃত সাতটি গ্লাসের প্রতিটিতে এবং পেয়ালাটিতেও অসংখ্য জিনিস আছে, এটাই বুঝতে হবে। কারণ সাতটি গ্লাস প্রস্তুতের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। তাই বার বার সাতটি গ্লাস না বলে ভাষার সৌন্দর্য রক্ষার্থে শুধু গ্লসগুলো বললেও সাতটি গ্লাসই বুঝতে হবে।
প্রথম আসমান বলতে আমরা কি বুঝবো ? সহজ কথায় পৃথিবী পৃষ্ঠের চতুর্দিকে ঊর্ধ্বে দৃশ্যমান যে অসীম বিস্তার আমরা অবলোকন করি, সেটাকেই প্রথম আসমান হিসেবে চিহ্নীত করা যেতে পারে। আমাদের পা যখন পৃথিবী পৃষ্ঠ ছুঁয়ে থাকে তখন আমাদের মাথা থাকে প্রথম আসমানের সবচেয়ে নিকটতম স্তর অর্থাৎ বায়ুমন্ডলের মধ্যে। তাছাড়া বায়ুমন্ডলের স্তরসমূহ, কক্ষপথ, গ্রহ, উপগ্রহ, নক্ষত্র, নক্ষত্রপুঞ্জসমূহ যেমন আমাদের ছায়াপথ অর্থাৎ Milky Way galaxy এর মত অন্যান্য গ্যালাক্সিগুলো, গ্যালাক্সিগুচ্ছ বা বুরুজ অর্থাৎ ‘তারকার ঘর সমূহ’ ইত্যাদি সবকিছুই প্রথম আসমানের অসংখ্য স্তরসমূহ। প্রথম আসমানের এই দৃশ্যমান সীমানাকে আমরা কখনই অতিক্রম করতে পারব না এবং অন্যান্য আসমানসমূহে কি আছে তা হয়ত স্বচক্ষে দেখতে পারব না। তবে দৃষ্টি-সীমানার মধ্যে আবদ্ধ প্রথম আসমানী জগতের বাহিরে পরবর্তী আসমানসমূহে কি আছে তা সরাসরি দেখতে না পারলেও অদূর ভবিষ্যতে মহাশক্তি বা বিশেষ ক্ষমতা অর্জনের মাধ্যমে অনুভবের আলোকে হয়ত কিছুটা বর্ণনা করা যেতেও পারে। যেমন এখন বিজ্ঞানীগণ মোট দশটি ডাইমেনশন বা মাত্রার কথা ব্যক্ত করছেন। তবে এর মধ্যে চারটি ডাইমেনশনের কারণেই যে এই দৃশ্যমান জগতের জড় ও অজড় সবকিছু এবং আমরা আকৃতি লাভ করেছি এবং জন্ম-মৃত্যু, ক্ষুধা-তৃষ্ণা, সৃষ্টি, ক্ষয়, ধ্বংস, রোগ-ব্যাধি, সুখ-দুঃখ, প্রেম-ভালবাসা ইত্যাদির ছকে বাঁধা পরেছি, তা আজ প্রতিষ্ঠিত একটি বৈজ্ঞানিক তথ্য। স্থানের তিনটি ও কালের একটি মাত্রা অর্থাৎ এই চারটি মাত্রার ছকে সাজান সুরক্ষিত সীমানার মধ্যে যে দৃশ্যমান জগতকে আমরা ও বিজ্ঞানীগণ শক্তিশালী দূরবিক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে অবলোকন করেন তা কি অতিক্রম করা আদৌ সম্ভব হবে ? বিজ্ঞানীগণ বাকি যে ডাইমেনশনগুলো নিয়ে অনুভব ও চিন্তা ভাবনা করছেন সেগুলো অথবা আরও অধিক ( দশ মাত্রা বা তারও অধিক ) মাত্রার ছকেই হয়ত আল্লাহতায়ালা বাকী ছয়টি আসমানকে সাজিয়ে রেখেছেন। মহাশক্তি অর্জন অর্থাৎ বৈজ্ঞানিক অগ্রগতির ফলে হয়ত অচিরেই অনুমান ও অনুভবের উপর ভিত্তি করে সেই ছয়টি আসমান সম্পর্কে কিঞ্চিত ব্যাখ্যা প্রদান করা সম্ভব হতেও পারে। তবে সেই ছয়টি আকাশ আমাদের দৃশ্যপটের আড়ালেই বিরাজ করবে। দৃষ্টিসীমার মধ্যে আনা মানুষের সাধ্যের অতীত বৈকি।
সূরা নাবা-আয়াত নং-১২
(৭৮ : ১২) অর্থ:- আমি নির্মান করেছি তোমাদের ঊর্ধ্বদেশে সুস্থিত সপ্ত-স্তর,
সবশেষে বলা দরকার যে, সপ্ত-আকাশমন্ডলীকে অস্বীকার করলে অর্থাৎ আল্লাহতায়ালার স্বঘোষিত সাত আসমানকে অসংখ্য আসমান হিসেবে ব্যাখ্যা করলে পরোক্ষভাবে সর্বশেষ নবী ও রাসূলাল্লাহ্ হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) কর্তৃক বর্ণীত বিজ্ঞানময় মিরাজের বাস্তব ঘটনাটিকে অস্বীকার করা হয় না কি ? মিরাজের গৌরবময় রজনীতে মহান আল্লাহতায়ালা তাঁর অসীম ক্ষমতা ও কুদরতের পরশে তাঁর সবচেয়ে প্রিয় ও আনুগত্যশীল বান্দা হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-কে স্থান ও কালের সীমানা অতিক্রম করিয়ে সপ্ত-আকাশমন্ডলীতে স্ব-শরীরে ভ্রমন করিয়েছিলেন এবং অতীত বর্তমান ও ভবিষ্যতের জ্ঞানদান করেছিলেন। সুতরাং আল্লাহর বাণী ছাব‘আ ছমাওয়াতি অর্থাৎ সপ্ত-আকাশমন্ডলীকে, অসংখ্য আকাশমন্ডলী হিসেবে ব্যাখ্যা না করে বরং আসুন আমরা নির্দিধায় মেনে নেই যে আল্লাহতায়ালা (৭৮:১২) সুস্থিত সপ্ত-আকাশকে সাতটি আসমানী সীমানার (আমাদের দৃষ্টিতে যা অসীম) অন্তরালে মজবুতভাবে নির্মান করে সাজিয়ে রেখেছেন এবং প্রত্যেকটি আকাশে অসংখ্য স্তরসমূহ সৃষ্টি করেছেন। বর্তমান সময়ে হয়ত এই বিষয়টিকে বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোন থেকে তেমন জোরালো ও নিখুঁতভাবে ব্যাখ্যা করা সম্ভব হচ্ছে না। কিন্তু ভবিষ্যতে বিজ্ঞানের আরও উন্নততর আবিস্কারের আলোকে হয়ত এ বিষয়টিকে গভীরভাবে ব্যাখ্যা করা সম্ভব হবে। আল-কোরআনের অকাট্য সত্যবাণী দিয়ে বৈজ্ঞানিক তথ্যসমূহকে যাচাই করার মানসিকতা নিয়েই ধৈর্য্যরে সাথে এই প্রচেষ্ঠা চালাতে হবে। তাহলেই কেবল আমরা সকল প্রকার বিভ্রান্তির হাত থেকে রক্ষা পাব। কারণ আল-কোরআনের চরম সত্য তথ্যগুলোর মোকাবেলায় অনুমানের কোনই মূল্য নাই।

বিংশ শতাব্দি বিজ্ঞানের যুগ। প্রায় ১৪৫০ বছর পূর্বেই মহান স্রষ্টা তাঁর বিজ্ঞানময় গ্রন্থে এমন সব অকাট্য বৈজ্ঞানিক তথ্যের অবতারনা করেছেন যেগুলোর মর্ম ধীরে ধীরে উপলব্ধি করা সম্ভব হচ্ছে। এ বিষয়টি তো সর্বজ্ঞ আল্লাহতায়ালার পরিকল্পনার মধ্যেই ছিল এবং তিনি ভালভাবেই জানতেন যে, এমন এক সময় আসবে যখন আল-কোরআনে প্রদত্ত বৈজ্ঞানিক তথ্যগুলো অন্যান্য ধর্মের বিজ্ঞানীদের দ্বারা তাদের অজান্তেই সত্য বলে আবিষ্কৃত হতে থাকবে। এরফলে এই সত্য তথা প্রতিষ্ঠিত বৈজ্ঞানিক তথ্যগুলো একদিকে যেমন তারা সরাসরি অস্বীকার করতে পারবে না, অপরদিকে তেমনি এই তথ্যগুলো কিভাবে আল-কোরআনে স্থান পেল তা অবিশ্বাসীরা ভেবে কুল পাবেনা। কিন্তু এই সত্য তথ্যগুলোকে যে স্বয়ং মহান স্রষ্টাই তাঁর প্রেরিত মহাগ্রন্থে মানুষকে পরীক্ষা করার জন্য আগে থেকেই সংযোজন করে রেখেছেন তা ঈমানদারেরা সহজেই বুঝে নেবে ও একবাক্যে বিশ্বাস করে নেবে। এই ঐশী তথ্যগুলোর অছিলায় অনেক নীরহংকার জ্ঞানী ও বিচক্ষণ ব্যাক্তিবর্গ যে ইমানের আলোয় আলোকিত হবে তা বলার অপেক্ষা রাখেনা। তবে এপরও যারা অহংকার বশত বে-ইমানের পথে পা বাড়াবে তাদের ফায়সালার জন্য তো মহান আল্লাহই যথেষ্ট।

অদ্ভুত প্রকৃতির এক শিশুর জন্ম

অদ্ভুত প্রকৃতির এক শিশুর জন্ম

টাঙ্গাইলে অদ্ভুত প্রকৃতির এক শিশুর জন্ম দিয়েছেন মা। শিশুটির আকৃতি পশুর মতো হলেও নড়া-চড়া ও মায়ের দুধ পানসহ শব্দ মানুষের মতো করতে পারে। জম্ম হওয়ায় পর শিশুটির পিতাসহ পরিবারের সকলেই ভীত ও কান্না-কাটি শুরু করেছে। শিশুটির মা নিথর হয়ে হাসপাতালের বেডে শুয়ে আছেন। এ শিশু জন্মের মধ্যে দিয়ে উভয় পরিবারের মধ্যে চলছে দ্বন্দ্ব। নানী ছাড়া অন্য কেউ শিশুটিকে দেখতে আসছেন না।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ধারণা এটা একটি রোগ। এতে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। শিশুটির অবস্থা আশংকা জনক। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে শিশুটিকে দেখতে সহস্রাধিক লোক হাসপাতালে ভিড় জমায়।  পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ শিশুটির অবস্থা আশংকা জনক হওয়ায় মঙ্গলবার সকালে ঢাকায় পাঠিয়ে দেন। ঘটনাটি ঘটেছে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। এ ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সোমবার দুপুর ১ টা ৩০ মিনিটি ১নং ওয়ার্ডের ওটি রুমে স্বাভাবিক ভাবে জন্ম  হয় শিশুটির। শিশুটির মায়ের নাম  ছালেহা (২০)। পিতার নাম রফিক। বাড়ী টাঙ্গাইল সদর উপজেলার বরুহা এলাকায়। শিশুটির হাত, পা, মুখ চোখ এমনকি শরীরের চামড়াও বাঘের মত দেখতে।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর মঙ্গলবার টাঙ্গাইল মেডিকেল হাসপাতালে শিশুটিকে দেখার জন্য মানুষ ভীড় করে এবং মোবাইলে ছবি তুলতে থাকে।  এ খবর মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে মানুষের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। হাসপাতালের ১ নং ওয়ার্ডের অফিসার ইনচার্জ জানান, বাঘের মত দেখতে এক পুত্র শিশুর জন্ম দিয়েছেন এক মহিলা। এই ঘটনাটি এবারই প্রথম ঘটেছে। আমরা কিছুটা অবাকও হয়েছি। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর শিশুটিকে দেখার জন্য মানুষ ভীড় করছে।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জুনিয়র কনসালটেন্ট নাজমা খলিল জানান, সালেহা বেগমের তল পেটে ব্যাথা হয়েছে এই চিন্তা করে হাসপাতালে ডাক্তার দেখাতে এসেছিলেন। সব কিছু চেকাপ করে দেখা যায় তার পেটে ৯ মাসের সন্তান। সালমা এ সন্তানের ব্যাপারে কিছুই জানত না। সোমবার বাচ্চা প্রসবের জন্য তাকে ভর্তি হয়।
বাচ্চাটি জন্মগ্রহন করলে দেখা যায় দেখতে অনেকটাই বাঘের মত, তার মুখে দুটি দাঁতও রয়েছে।  পরে  মা  ও শিশুকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। স্থানীয়দের সঙ্গে আলাপকালে তারা জানান, ”আমরা শিশুটিকে দেখতে হাসপাতালে এসেছি। শিশুটির ছবি  মানুষের মোবাইলে মোবাইলে  ঘুরছে। আমরা তাদের কাছ থেকে ছবিটি দেখেছি”।

সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৫

গুলশানে কূটনীতিক পাড়ায় বিদেশিকে গুলি

গুলশানে কূটনীতিক পাড়ায় বিদেশিকে গুলি


এবার আসছে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় সুপার টাইফুন ‘দুজুয়ান’

এবার আসছে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় সুপার টাইফুন ‘দুজুয়ান’

তাইওয়ানে ধেয়ে আসছে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় সুপার টাইফুন ‘দুজুয়ান’।  এ খবরে এরই মধ্যে দেশটির পূর্ব উপকূল থেকে হাজার হাজার মানুষকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে।
দুজুয়ানকে কেন্দ্র করে দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবেলা লাখো সেনা প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।
সোমবার বিবিসি জানিয়েছে, তাইওয়ানের আবহাওয়া ব্যুরো এটিকে শক্তিশালী টাইফুন বলে বর্ণনা করেছে।  
ধারণা করা হচ্ছে, বাংলাদেশ সময় আজ সোমবার রাত ৯টার দিকে (জিএমটি ১৫টা) এটি আঘাত হানতে পারে।  সেইসঙ্গে প্রবল বৃষ্টিপাত ও তীব্র ঝড়ের আশঙ্কাও রয়েছে।
অবশ্য আগামী বুধবার চীনে পৌঁছানোর আগে শক্তিশালী ঝড়টি দুর্বল হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিবিসির খবরে জানানো হয়েছে, তাইওয়ানে আঘাত হানার আগে দুজুয়ান জাপানের ইশিগাকি দ্বীপ অতিবাহিত হবে।
জাপানের আবহাওয়া দপ্তর সতর্ক করে বলেছে, এতে ১৩ মিটার উঁচু ঢেউয়ের সৃষ্টি হতেপারে।
রোববার তাইওয়ানের গ্রিন ও অর্চিড দ্বীপ থেকে প্রায় ৩ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে; যাদের বেশির ভাগই পর্যটক।  আজ সোমবার আরো ৪ হাজার মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেয়া হয়েছে।

অস্ট্রেলীয় ক্রিকেট দলকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ।

অস্ট্রেলীয় ক্রিকেট দলকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ।

অস্ট্রেলীয় ক্রিকেট দলকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ।

সোমবার সন্ধ্যা ৬টায় র‌্যাব হেডকোয়ার্টারে অস্ট্রেলীয় প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানান।

এ সময় বেনজির আহমেদ বলেন, যে নিরাপত্তার অযুহাতে অস্ট্রেলীয় ক্রিকেট দল বাংলাদেশে আসতে অনীহা প্রকাশ করেছে, সেই বিষয়গুলো নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। তাদের আশ্বস্ত করা হয়েছে, বাংলাদেশে সফরকালে তাদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হবে। জবাবে তারা বলেছেন, এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন দেবেন প্রতিনিধিদল। সেই প্রতিবেদনের ওপর নির্ভর করে সিদ্ধান্ত নেবে অস্ট্রেলীয় ক্রিকেট দল বাংলাদেশে আসছে কিনা।

এর আগে সোমবার বিকেল সাড়ে চারটায় উত্তরায় অবস্থিত র‌্যাব হেড কোয়ার্টারে প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক শুরু হয়। তার আগে প্রতিনিধিদল রবিবার ঢাকায় এসে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন, এনএসআইয়ের ও ডিজিএফআইয়ের মহাপরিচালকের সঙ্গে অস্ট্রেলীয় হাইকমিশনে নিরাপত্তা বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। এরপর সোমবার সকালের দিকে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে স্বরাস্ট্রমন্ত্রীর আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে বৈঠক করেন।

বৈঠকে আসাদুজ্জামান খান কামাল ছাড়াও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোজাম্মেল হক খান, বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন, সহসভাপতি মাহবুব আনাম, ভারপ্রাপ্ত মহাপুলিশ পরিদর্শক মোখলেছুর রহমান, র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়াসহ নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, সোমবার বাংলাদেশের উদ্দেশে রওনা দেওয়ার কথা ছিল স্টিভেন স্মিথের নেতৃত্বাধীন অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দলের। তবে তাদের জন্য বাংলাদেশকে ‘অনিরাপদ’ হিসেবে উল্লেখ করে দেশটির পররাষ্ট্র ও বাণিজ্যবিষয়ক অধিদপ্তর (ডিএফএটি) গত শুক্রবার যে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, তারই ফলে বাংলাদেশ সফরের ব্যাপারে আপাতত ‘ধীরে চলার নীতি গ্রহণ করেছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া।

রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৫

মুসলিমদের পবিত্র হজের মধ্যে নারীদের যৌন হয়রানি

মুসলিমদের পবিত্র হজের মধ্যে নারীদের যৌন হয়রানি

মুসলিমদের পবিত্র হজের মধ্যে নারীদের যৌন হয়রানি করায় এক ব্যক্তিকে ধরে সাজা দেওয়া হয়েছে বলে সৌদি আরবের প্রভাবশালী দৈনিক সৌদি গেজেটে প্রকাশিত এক খবরে বলা হয়েছে।
রোববার সংবাদপত্রটির ইন্টারনেট সংস্করণে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিনার জামারাতে প্রতীকী শয়তানের প্রতি পাথর ছোড়ার সময় হজ পালনরত নারীদের যৌন হয়রানির সময় পুলিশ ওই ব্যক্তিকে আটক করে।
মদিনা নিউজকে উদ্ধৃত করে এই সংবাদটি ছেপেছে সৌদি গেজেট। গ্রেপ্তার ব্যক্তি এশীয় বংশোদ্ভূত বলে জানালেও তার পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।
প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়েছে, “গ্রেপ্তার ব্যক্তি নিজের দোষ স্বীকার করার পর তাকে যথাযথ কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেওয়া হয়। বিচারক কারাদণ্ডের পাশাপাশি তাকে বেত্রাঘাতের শাস্তিও দিয়েছেন।”
দুটি দুর্ঘটনায় হাজার মানুষের প্রাণহানির মধ্যে এবার মক্কায় হজ পালন করছেন সারাবিশ্বের ২০ লাখের বেশি মুসলিম। এদের একটি বড় অংশ নারী।
মিনায় জড়ো হয়ে হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু করেন মুসলিমরা। আরাফাতের ময়দানে খুতবা শোনা এবং দিনভর ইবাদতের পর মিনায় ফিরে জামারাতে প্রতীকী শয়তানকে লক্ষ্য করে পাথর ছোড়া হজের আনুষ্ঠানিকতার অংশ।
ওই সময়ই ওই ব্যক্তিকে যৌন হয়রানির অভিযোগে আটক করে সাদা পোশাকে দায়িত্ব পালনরত সৌদি পুলিশের সদস্যরা।
সংবাদ প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই ব্যক্তিকে ঘুরে ফিরে একাধিকবার পাথর ছুড়তে যেতে দেখা যায় এবং যেখানে নারীদের ভিড় ছিল তিনি সেদিকেই যাচ্ছিলেন বলে পুলিশের সন্দেহ হয়।
তখন তাকে ধরে পাশের পুলিশ স্টেশনে নেওয়া হয়, সেখানে পাবলিক প্রসিকিউশন বিভাগের কর্মকর্তাদের জেরার মুখে ওই ব্যক্তি দোষ স্বীকার করেন বলে সৌদি সংবাদপত্রটি জানায়।

শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৫

বোমার টুকরো মাথায় নিয়ে জন্মাল শিশু।

বোমার টুকরো মাথায় নিয়ে জন্মাল শিশু।

বোমার টুকরো মাথায় নিয়ে জন্মাল শিশু। শুনতে অদ্ভুত লাগলেও সম্প্রতি ঠিক এমনটাই ঘটেছে সিরিয়ায়। অ্যালেপ্পোর হাসপাতালে সফল অস্ত্রোপচারের পর সুস্থ রয়েছে মা ও শিশু। যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ায় ২০১৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর তীব্র বিস্ফোরণের মুখে পড়েন অন্তঃস্বত্বা আমিরা বিবি। ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে গুরুতর জখম হন তিনি। একই সঙ্গে আহত হয় তাঁর তিন সন্তান। সঙ্কটজনক অবস্থায় তাকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিত্‍সার পর সকলেই হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে ঘরে ফেরেন। যথা সময়ে এক কন্যা সন্তানের জন্ম দেন আমিরা। কিন্তু ভূমিষ্ঠ শিশুকে দেখে চমকে ওঠেন চিকিত্‍সক ও নার্সরা। দেখা যায়, শিশুটির কপালে গেঁথে রয়েছে বোমার টুকরো। আসলে বিস্ফোরণে ক্ষেপণাস্ত্রের খুদে অংশ আমিরার শরীরে প্রবেশ করে সরাসরি ভ্রূণের ভিতরে সেঁটে যায়। সিরিয়ার মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য মোহাম্মদ তাব্বা জানিয়েছেন, 'জন্মের আগেই তাকে নিশানা করা হয়েছিল! পরিস্থিতি দেখে এমনই মনে হওয়া স্বাভাবিক। আশা করি শিশুটির ভবিষ্যত্‍ অন্তত সুন্দর হবে।' চিকিত্‍সকদের চেষ্টা এবং ভাগ্যের জোরে বিপন্মুক্ত হয়েছে শিশুটি। হাসপাতালের কর্মীরা মেয়ের নাম রেখেছেন 'আমেল', সিরীয় ভাষায় যার অর্থ 'আশা'। 

রহস্যময় চলমান পাথর ।

রহস্যময় চলমান পাথর ।

বিচিত্র এ পৃথিবীতে এমন সব রহস্য লুকিয়ে আছে যার ব্যাখ্যা আজও দিতে পারেনি বিজ্ঞানীরা। তেমনই প্রকৃতির এক বিস্ময় ডেথ ভ্যালি উপত্যকার রেসট্র্যাক প্লায়া জায়গাটির চলমান পাথর। ক্যালিফোর্নিয়ার রেসট্র্যাক প্লায়ার ওই অংশটি জনমানবহীন এক বৈচিত্রময় জায়গা। সচরাচর অন্য প্রানীও দেখা যায় না এখানে। অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি যে, এই উপত্যকার রহস্যময় পাথরগুলি কোন এক অজানা কারণে তার স্থান পরিবর্তন করে বয়ে চলে। আজপর্যন্ত পাথরগুলোকে চলমান অবস্থায় কেউ কখনো দেখেনি। তবে মাটির স্তরে রেখে যাওয়া ছাপ থেকে পাথরগুলোর স্থান পরিবর্তন নিশ্চিত হওয়া যায়। কিছু কিছু পাথরের কয়েকশ পাউন্ড পর্যন্ত ওজন হয়, এই ভারি ভারি পাথরগুলো কিভাবে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যায়, সে রহস্য আজও উন্মোচিত হয়নি। মানুষ বা অন্য কোনো প্রাণীর দ্বারা পাথরের স্থান পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও আশেপাশে মাটিতে তাদের কোনো পদচিহ্ন পাওয়া যায় না। সর্বপ্রথম ১৯৪৮ সালে ডেথ ভ্যালি-তে এমন বিস্ময়কর ঘটনাটি বিশেষজ্ঞদের নজরে আসে। কিছু গবেষকদের মতে, মাটি যখন কর্দমাক্ত থাকে এবং বরফ পড়ে পিচ্ছিল হয় তখন বাতাসের ধাক্কায় পাথরগুলো স্থান পরিবর্তন করতে পারে। শেষ পর্যন্ত এই যুক্তিও গ্রহনযোগ্যতা পাইনি। কারণ পাথরগুলো তখনও স্থান পরিবর্তন করে যখন গ্রীষ্মকালে মাটি একেবারে শুকনো থাকে এবং বরফও পড়ে না। তাছাড়া পাথরগুলো একই রাস্তায় চলে না। প্রতিটি পাথরের চলার পথ সম্পূর্ণ ভিন্ন বা আলাদা। এছাড়াও এটি আরও রহস্যময় হয়ে উঠার প্রধান কারণ হচ্ছে, বিস্তৃত এই এলাকাটি জনমানবহীন। এমনকি এখানে বন্যাও হয় না এবং এখানে এতো গতিবেগে বাতাস প্রবাহিত হয় না যে পাথরগুলোর স্থান পরিবর্তনে সহায়ক হবে। -