
সরেজমিন শালকোপাড়া গ্রামে গিয়ে জানা যায়, শালকোপা গ্রামের মৃত মোহাম্মদ মোল্লার মেয়ে ছোট বুড়ি (৬০) মানুষিক রোগে আক্রান্ত হয়ে ১৯৯০ সালের দিকে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোজ হয়। দীর্ঘ ১৫ বছর তার কোন খোজ ছিল না। হঠাৎ ২০০৫ সালের দিকে পরিবারের লোকজন খবর পায় ছোট বুড়ি সদর উপজেলার ছয়াইল গ্রামে বেড়িয়ে বেড়াচ্ছে। এর পর পরিবারের লোকজন তাকে সেখান থেকে ধরে বাড়িতে আনে। এরপর পেরিয়ে যায় ৩ বছর। হঠাৎ একদিন ছোট বুড়ি মারা যায়। দাফন করা হয় বাড়ির পাশেই। এ পর সবাই নিশ্চিন্তে ছিল। ৭ বছর পর আবার গত ১০ সেপ্টেম্বর সকালে ছোট বুড়ি কে সদর উপজেলার নারিকেলবাড়িয়া এলাকার মহিষাডাঙ্গা গ্রামে দেখা গেছে এমন খবর পেয়ে তার সেজো ভাই সদর উদ্দিন মোল্লাসহ অন্যরা সেখানে যায়। এবং দেখে তার বোনের মতোই চেহারার একটি মহিলা। এর পর তারা তাকে প্রশ্ন করে তোমার বাড়ি,তোমার বাবার নাম, তোমার ভাইদের নাম কি। একে একে সে উত্তর দেয়। এর পর তাকে আবার নিজ বাড়িতে আনে সদর উদ্দিন। এ ঘটনা জানাজানির পর এলাকার নারীপুরুষ ছোট বুড়ি কে দেখার জন্য ভিড় করছে তার বাড়িতে।
ঐ গ্রামের মরিয়ম বেগম, আলেয়া খাতুন জানান, অনেকে ধারণা করছে ছোট বুড়ির আত্মা নিয়ে আবার বাড়িতে ফিরে এসেছে। কিন্তু অলৌকিক কিছু ঘটেনি। আসলে আগের মরে যাওয়া ছোট বুড়ি হয়তো নকল ছিল।
ছোট বুড়ির ভাই সদর উদ্দিন মোল্লা জানান, আগে যখন তার বোন ভেবে ছোট বুড়ি কে নিয়ে আসা হয়েছিল তার সাথে নিজ বোনের হু বহু মিল ছিল। তার বোনের মতো কান কাটা-নাক টাকা ছিল যার প্রেক্ষিতে তাকে বাড়িতে আনা হয়েছিল। এক পর্যায়ে সে মারা যায় । আমরা তাদের বাড়ির পাশেই দাফণ করি। কিন্তু ৭বছর পর হঠাৎ করে আবার যখন আমরা আরেক ছোট বুড়িকে পাই তখন বুঝতে পারি এটাই আমাদের আসল বোন। তিনি আরো জানান, বর্তমানে যে বোনটিকে পাওয়া গেছে সে মানুষিক রোগী হলেও আমাদের নাম,বাবার নাম বলতে পারে। কিন্তু আগে যাকে দাফন করা হয়েছে বুড়ি ভেবে সে কোন কথা বলতে পারতো না।
ঘোড়শাল ইউনিয়নের ১ নং ওয়াড্র্রে মেম্বর জাহিদুল ইসলাম দুদু জানান, ঘটনাটি জানার পর এলাকায় বেশ চাঞ্চল্যকর সৃষ্টি হয়েছে। তবে বর্তমানে যে ছোট বুড়িকে পাওয়া গেছে সেটিই আসল । আর যাকে আগে দাফন করা হয়েছিল সেজন নকল ছিল।
0 comments: